কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ক্লাউড সেবার চাহিদা বাড়বে এমন প্রত্যাশায় চলতি বছরের বার্ষিক ও প্রথম প্রান্তিকের আয়ের পূর্বাভাস ওয়াল স্ট্রিটের অনুমানের চেয়ে বেশি দিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার। ইতিবাচক এই পূর্বাভাসের পর পরবর্তী লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ার প্রায় ১২% পর্যন্ত বেড়েছে।
ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের বিক্রি হবে ২.৭৯ থেকে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস ২.৭৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি হতে পারে ৬২০ থেকে ৬২১ মিলিয়ন ডলার, যেখানে বাজারের অনুমান ছিল ৬১৩.৯ মিলিয়ন ডলার।
ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব ৩৩.৬% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৪.৫ মিলিয়ন ডলারে, যা প্রত্যাশিত ৫৯১.৩ মিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে নিট ক্ষতি কমে ১২.১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২.৮ মিলিয়ন ডলার।
এআই ও ‘এজেন্ট’ প্রযুক্তির প্রভাব
বিভিন্ন শিল্পখাতে এআই সংযোজনের প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডিজিটাল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ছে, যার সুফল পাচ্ছে ক্লাউড সেবা প্রদানকারীরা। ক্লাউডফ্লেয়ারের সিইও ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, “এআই ও এজেন্টভিত্তিক প্রযুক্তির দিকে এই পরিবর্তন ইন্টারনেটের মৌলিক পুনর্গঠন ঘটাচ্ছে, যা আমাদের সেবার চাহিদা বাড়াচ্ছে।”
সম্প্রতি ‘ক্লডবট’ নামের একটি এআই এজেন্টের নাম পরিবর্তন করে ‘ওপেনক্ল’ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদভাবে নিজস্ব কম্পিউটারে ট্রাফিক রাউট করতে পারেন, ফলে বাড়ির নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না ফেলেই দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।
আউটেজের পর আস্থা ফেরানোর চেষ্টা
গত নভেম্বরে ক্লাউডফ্লেয়ারের একটি আউটেজের কারণে এক্স (সাবেক টুইটার) ও চ্যাটজিপিটির মতো বড় প্ল্যাটফর্মে প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ফলাফল সেই উদ্বেগ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ক্লাউডফ্লেয়ারের শেয়ার ৮% এর বেশি কমেছে। তবে ২০২৫ সালে শেয়ারটি ৮৩% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এআই–কেন্দ্রিক ক্লাউড অবকাঠামো চাহিদা অব্যাহত থাকলে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










