১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের ঠিক আগের দিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দলের নিরঙ্কুশ জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা, পররাষ্ট্রনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গুম-খুনের বিচারের রূপরেখা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি-দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান।
নির্বাচন ও সরকার গঠন নিয়ে আত্মবিশ্বাস
তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিএনপি কোনো জাতীয় সরকার বা ঐক্যের সরকার নয়, বরং এককভাবেই সরকার গঠনের পথে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কনফিডেন্ট যে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাবো। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হবো—এককভাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য কাউকে না কাউকে বিরোধী দলেও থাকতে হবে, তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের পরিকল্পনা তার নেই।
১৭ বছরের নির্বাসন ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত শোকের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা (বেগম খালেদা জিয়া) মারা গেলেন। একদিকে নির্বাচনি ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত শোক—দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
নারীর ক্ষমতায়ন ও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা
নারী ভোটারদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে তারেক রহমান বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছেন:
ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক গৃহিণীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস: বড় শহরগুলোতে নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যা নারীরাই পরিচালনা করবেন।
উচ্চশিক্ষা: ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষার সুযোগকে আরও উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্রনীতি: ভারত ও চীন প্রসঙ্গ
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ‘দেশের স্বার্থকে’ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে তিনি বলেন, “দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো চুক্তি হলে দূরত্ব হওয়া স্বাভাবিক। আমি তো আমার দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি।” চীনের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ দেশের স্বার্থ বজায় রেখে সব দেশের সঙ্গেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখবে বিএনপি।
গুম-খুনের বিচার ও দুর্নীতি দমন
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুম ও খুনের বিচারের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি সভ্য দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে পারে না। দেশের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ভুক্তভোগী বিচার পাবেন।” অন্যদিকে, দলীয় প্রার্থীদের ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় দলীয় ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত করার কারণেই এই ‘ডিফল্ট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি দুর্নীতি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও জনসমর্থন
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, ৫ আগস্ট যার উদাহরণ।”
সূত্র: ডয়চে ভেলে
-লামিয়া আক্তার










