নাসার এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গলের পৃষ্ঠে পাওয়া জৈব যৌগগুলোর পরিমাণ শুধু অজৈব বা প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। গবেষকদের মতে, এসব যৌগের উৎপত্তিতে অতীতে জীবনের ভূমিকা থাকতে পারে যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
নাসার কিউরিওসিটি (Curiosity) রোভার ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মঙ্গলের গেইল ক্রেটারে সংগ্রহ করা একটি শিলা নমুনা বিশ্লেষণ করে ডেকেন, আনডেকেন ও ডোডেকেন নামের তিনটি জৈব যৌগ শনাক্ত করে। এগুলো এখন পর্যন্ত মঙ্গলে পাওয়া সবচেয়ে বড় আকারের জৈব অণু। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এগুলো প্রাচীন কাদামাটিতে সংরক্ষিত ফ্যাটি অ্যাসিডের ভগ্নাংশ হতে পারে। পৃথিবীতে ফ্যাটি অ্যাসিড সাধারণত জীবের মাধ্যমে তৈরি হলেও, কিছু ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াতেও এগুলো উৎপন্ন হতে পারে।
কিউরিওসিটির তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি বলা সম্ভব হয়নি যে এই অণুগুলো জীবের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে কি না। এ কারণেই গবেষকরা একটি অনুসন্ধানমূলক (follow-on) গবেষণা চালান, যেখানে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মঙ্গলের পৃষ্ঠে জৈব যৌগ পৌঁছানোসহ বিভিন্ন অজৈব উৎস বিবেচনা করা হয়।
৪ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী Astrobiology-তে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, তারা যে অজৈব উৎসগুলো পরীক্ষা করেছেন, সেগুলো কিউরিওসিটি দ্বারা শনাক্ত জৈব যৌগের পরিমাণ পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারছে না। তাই যুক্তিসঙ্গতভাবে ধারণা করা যায়, অতীতে কোনো সময় জীব এই যৌগগুলো তৈরি করে থাকতে পারে।
গবেষণার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে বিকিরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষা, গাণিতিক মডেলিং এবং কিউরিওসিটির পাঠানো তথ্য একত্রে ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তারা প্রায় ৮ কোটি বছর আগের পরিস্থিতি পুনর্গঠন করেন যতদিন ওই শিলাটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে উন্মুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মহাজাগতিক বিকিরণের প্রভাবে কতটা জৈব পদার্থ নষ্ট হতে পারে, তা হিসাব করে দেখা যায় যে শুরুতে সেখানে থাকা জৈব পদার্থের পরিমাণ অজৈব প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মঙ্গলের মতো পরিবেশে ও শিলায় জৈব অণু কত দ্রুত ভেঙে যায়, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য অতিরিক্ত গবেষণা জরুরি। জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও তথ্য ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
সাবরিনা রিমি/










