হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে ফলোয়ার বাড়াতে নতুন চমক: মেটার নতুন কৌশলে বাজিমাত

মেসেজিং অ্যাপ থেকে নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম’-এ রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল হোয়াটসঅ্যাপ। বিশেষ করে ‘চ্যানেল’ ফিচারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে নিতে এবং অনুসরণকারী (ফলোয়ার) বাড়ানোর পথ সুগম করতে নতুন কিছু শক্তিশালী ফিচার যুক্ত করছে মেটা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ এখন সরাসরি টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রামের ব্রডকাস্ট চ্যানেলের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে ফলোয়ার বাড়ানো ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ। কিন্তু নতুন আপডেটে ‘চ্যানেল প্রোমোশন’ সহজ করতে বেশ কিছু নতুন সুবিধা আসছে:
  • সহজ আমন্ত্রণ (Direct Invitation): এখন থেকে চ্যানেল অ্যাডমিনরা তাদের ব্যক্তিগত কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি চ্যানেলে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। এতে করে প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যানেলের ভিত্তি তৈরি করা অনেক সহজ হবে।
  • স্ট্যাটাস শেয়ারিং সুবিধা: কোনো চ্যানেলের আকর্ষণীয় পোস্ট বা আপডেট এখন সরাসরি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসে শেয়ার করা যাবে। এর ফলে ওই ব্যবহারকারীর পুরো নেটওয়ার্কের কাছে চ্যানেলটির বার্তা পৌঁছে যাবে, যা ফলোয়ার বৃদ্ধিতে ‘ভাইরাল’ ইফেক্ট তৈরি করবে।
  • উন্নত ডিসকভারি অ্যালগরিদম: হোয়াটসঅ্যাপের সার্চ ডিরেক্টরিতে এখন নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি (যেমন: শিক্ষা, বিনোদন, প্রযুক্তি) যুক্ত হচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের বিষয় লিখে সার্চ দিলেই সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলো সবার আগে দেখতে পাবেন।
কেন এই পরিবর্তন?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেটা বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপকে কেবল চ্যাটিং অ্যাপ হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী ‘কন্টেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বা মনিটাইজেশন সুবিধা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রতিটি চ্যানেলে বিশাল সংখ্যক অডিয়েন্স বা ফলোয়ার থাকা জরুরি। এই নতুন ফিচারগুলো মূলত সেই বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে।
ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা
হোয়াটসঅ্যাপ নিশ্চিত করেছে যে, ফলোয়ার সংখ্যা বাড়াতে প্রচারণার সুযোগ দিলেও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো চ্যানেলে ফলো করলে ওই ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর অ্যাডমিন বা অন্য ফলোয়াররা দেখতে পাবেন না। এমনকি অ্যাডমিন যখন ইনভাইট পাঠাবেন, তখনও নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে।
প্রভাব পড়বে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে
বাংলাদেশেও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সংবাদ মাধ্যম, সেলেব্রিটি এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এখন হোয়াটসঅ্যাপকে তাদের প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ফলোয়ার বাড়ানোর এই নতুন সুবিধাগুলো দেশীয় উদ্যোক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেটার এই নতুন আপডেটগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

-এম.এইচ. মামুন