ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপিসহ মোট ২৬ হাজার ৩৩৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, এর মধ্যে পুলিশের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৯ জন, সেনাবাহিনীর ২ হাজার ৪০ জন, বিজিবির ৪০০ জন এবং আনসার-ভিডিপির সদস্য ১৯ হাজার ৩৮৩ জন।
মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা সবসময় চালু রাখতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ-অনুযোগ হলে তা প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি পুলিশ সদস্যদের পুরনো দুর্নাম কাটিয়ে দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বানও জানান।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মঙ্গলবার কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিয়েছে। বিকালে টমছম ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু করে কান্দিরপাড়, প্রেসক্লাব, ফৌজদারি, পুলিশ লাইনসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কেন্দ্রগুলোতেও সেনাবাহিনী নিরাপত্তা মহড়া দেখিয়েছে। এসব মহড়ায় কেন্দ্র নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণ ও ভোটারদের বাড়ি ফেরার নিরাপত্তা, কেন্দ্রের আশপাশের এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেয়ার প্রক্রিয়া পরীক্ষিত হয়েছে।
ভোটের দিনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কুমিল্লার ১১টি আসনে ৭৩ জন নির্বাহী হাকিম, ২৫ জন বিচারিক হাকিম, ৫৫ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৩৯ প্লাটুন বিজিবি, ২৪টি র্যাব মোবাইল টিমসহ শুধু ভোটকেন্দ্রের জন্য ৩ হাজার ৯৭৯ জন পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এছাড়া বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান, ১১টি আসনের ১৭টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১ হাজার ৪৯১টি কেন্দ্রে ভোটের বাক্স, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কুমিল্লার ১১টি আসনে আইনশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ দায়িত্বে ৭৩ জন নির্বাহী হাকিম ও ২৫ জন বিচারিক হাকিম তাদের নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান করবেন।
-এমইউএম










