বর্তমান সময়ে তরুণদের মাঝে রাত জাগার প্রবণতা ভয়াবহ আকারে বেড়ে গেছে। পড়াশোনা, চাকরি, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম কিংবা বিনোদনের নানা কারণে অনেক তরুণই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন; কিন্তু নিয়মিত রাত জাগা যে ধীরে ধীরে শরীর ও মনকে কতটা ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তা বেশিরভাগ সময়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।
রাত জাগার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ঘুমের স্বাভাবিক চক্রের ওপর। রাতে গভীর ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে, হরমোন নিঃসরণ স্বাভাবিক রাখে এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়। এই সময় ঘুম না হলে দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী তরুণদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়, কারণ পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিয়মিত রাত জাগা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এর ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের মতো জটিল রোগের সম্ভাবনাও বাড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অনিয়মিত ঘুম ও রাত জাগার ভূমিকা চিকিৎসকরাও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করছেন।
রাত জাগা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর সহজেই ভাইরাস, জ্বর, সর্দি বা অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। ত্বকের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে—চোখের নিচে কালচে দাগ, ব্রণ, নিস্তেজতা ও অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দেয়, যা তরুণ বয়সেই আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও রাত জাগা মারাত্মক ক্ষতিকর। অতিরিক্ত উদ্বেগ, বিরক্তি, রাগ এবং হতাশা বাড়তে থাকে। অনেক তরুণের মধ্যেই বিষণ্নতা ও একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হয়। তাই সুস্থ, কর্মক্ষম ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য তরুণদের নিয়মিত রাত জাগা পরিহার করা এবং প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
-বিথী রানী মণ্ডল










