রোজায় ইফতারের পরের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় শরীর সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং ইবাদতের জন্য মন প্রস্তুত হয়। তাই এই সময়টিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা জরুরি।
প্রথমেই ইফতার শুরু করা উচিত হালকা খাবার দিয়ে খেজুর, পানি বা শরবত দিয়ে রোজা ভাঙা সুন্নাহসম্মত এবং শরীরের জন্য উপকারী। এরপর ধীরে ধীরে ফল, স্যুপ বা হালকা খাবার খাওয়া ভালো। একসাথে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা তেলযুক্ত খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে এবং শরীর ভারী লাগে, তাই সংযম বজায় রাখা দরকার।
ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। নামাজ শেষে কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত, জিকির বা দোয়া করলে মন শান্ত থাকে এবং রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় থাকে।
খাওয়ার পর শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়াও প্রয়োজন। তবে একেবারে বেশি ঘুমিয়ে পড়া ঠিক নয়, এতে রাতে তারাবিহ বা অন্যান্য কাজ ব্যাহত হতে পারে। ২০–৩০ মিনিট বিশ্রাম নিলে শরীর সতেজ হয়ে যায়।
এরপর তারাবিহ নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এটি রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে। পাশাপাশি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করা খুব জরুরি, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, প্রয়োজনীয় কাজ গুছিয়ে নেওয়া এবং পরদিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াও ইফতারের পরের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিকভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করলে ইফতারের পরের সময়টুকু হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যকর, উপকারী ও বরকতময়।
-বিথী রানী মণ্ডল










