শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রাণহানি ও অচলাবস্থা

নজিরবিহীন শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রচণ্ড শীতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে প্রায় ৯ লাখ মানুষ। ঝড়ের প্রভাবে দেশজুড়ে বহু স্কুল ও সড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তুষারপাত, বরফ ও হিমবৃষ্টির কারণে জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্তোরেলি বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজকে জানান, “বরফ ও তুষার গলতে সময় লাগবে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর ফলে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।”

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শীতকালীন ঝড়ের কারণে লুইজিয়ানায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। টেক্সাসেও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে তীব্র শীতকালীন ঝড়। এক ধরনের আর্কটিক অবরোধ যেন আমাদের রাজ্যসহ পুরো দেশকে ঘিরে ফেলেছে।”

গভর্নর হোচুল আরও জানান, এই ‘নির্মম’ আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী শীত এবং বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তুষারপাত ডেকে আনতে পারে। তিনি একে ‘হাড় কাঁপানো ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও মন্তব্য করেন।

কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার বলেন, সেখানে তুষারের চেয়ে বরফ বেশি জমছে, যা রাজ্যের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড়ের সবচেয়ে বড় হুমকি হলো বরফ। এতে গাছ ভেঙে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে ক্ষতি হতে পারে এবং সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি ভার্জিনিয়ায় আঘাত হানার পর সেখানে ২০০টির বেশি গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।

-আফরিনা সুলতানা