দিনে কয়টা ঘণ্টা ঘুমানো উচিত—এই প্রশ্নের একটাই উত্তর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বয়স, কাজের ধরন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হয়। তবে চিকিৎসক ও ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম সবচেয়ে আদর্শ। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত ও গভীর ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রয়োজন আরও বেশি। নবজাতকের দিনে প্রায় ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হয়। স্কুলগামী শিশুদের জন্য ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা এবং কিশোরদের জন্য ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। কারণ এই বয়সে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি কমে, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয় এবং পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, বরং হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। নিয়মিত কম ঘুম হলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন ঠিকমতো না ঘুমালে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকে মনে করেন, সপ্তাহের কাজের চাপ সামলাতে রাতে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে বেশি ঘুমালেই সব পুষিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। অনিয়মিত ঘুম শরীরের জৈব ঘড়ি বা বডি ক্লককে বিঘ্নিত করে। ফলে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং দিনের বেলায় অলসতা ও মাথা ঝিমুনি লেগে থাকে।
ভালো ঘুমের জন্য শুধু সময় নয়, অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে জাগার অভ্যাস শরীরকে নিয়মে রাখে। ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ভারী খাবার এড়িয়ে চলা এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করাও গভীর ঘুমে সহায়ক। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় রাতে এড়িয়ে চললে ঘুম দ্রুত আসে।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের বিকল্প নেই। বয়স ও শরীরের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ঘণ্টার ঘুম নিশ্চিত করাই ভালো স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষম জীবনের চাবিকাঠি।
বিথী রানী মণ্ডল/










