শীতকালে শরীর সুস্থ ও আরামদায়ক রাখতে মোজা পরা একটি সহজ কিন্তু খুবই কার্যকর অভ্যাস। অনেকেই মোজাকে শুধু পায়ের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করেন, কিন্তু বাস্তবে শীতে মোজা পরার উপকারিতা অনেক গভীর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডার সময় শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে পায়ের ভূমিকা বড়। পা ঠান্ডা হয়ে গেলে পুরো শরীরেই শীত অনুভূত হয়। মোজা পায়ের তাপ ধরে রেখে শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
শীতে রক্ত সঞ্চালন অনেক সময় ধীর হয়ে যায়, বিশেষ করে হাত ও পায়ের দিকে। মোজা পরলে পায়ের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, ফলে অসাড়তা বা ঠান্ডাজনিত ব্যথা কম হয়। ডায়াবেটিস বা জয়েন্টের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য শীতে মোজা পরা আরও বেশি জরুরি। এতে পা শুষ্ক থাকে এবং ফাটার ঝুঁকি কমে।
শীতকালে অনেকেরই পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় বা গোড়ালি ফেটে যায়। নিয়মিত মোজা পরলে পায়ের ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং ত্বক নরম থাকে। বিশেষ করে ঘুমের সময় মোজা পরলে পায়ের শুষ্কতা দ্রুত কমে।
এছাড়া ঠান্ডা মেঝে বা টাইলসের ওপর খালি পায়ে হাঁটলে সর্দি, কাশি বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। মোজা পরলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতে মোজা পরা আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের শরীর ঠান্ডার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতে মোজা পরা শুধু আরামের জন্য নয়, বরং শরীরকে সুস্থ রাখা, ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি সহজ উপায়। তাই শীত মৌসুমে নিয়মিত পরিষ্কার ও আরামদায়ক মোজা পরার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
বিথী রানী মণ্ডল/










