রোজা রাখার সময় শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করা খুবই উপকারী। তবে এই সময়ে ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে সময়, ধরন এবং শরীরের সহনশীলতার বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে শক্তি কিছুটা কমে যায়, পানিশূন্যতার ঝুঁকিও থাকে। তাই সঠিক নিয়ম মেনে ব্যায়াম করলে যেমন ফিট থাকা যায়, তেমনি ক্লান্তিও কম হয়।
রোজার দিনে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যায়াম হলো হালকা কার্ডিও। যেমন ধীরে হাঁটা, হালকা জগিং বা সাইক্লিং। এগুলো শরীরের রক্তসঞ্চালন ভালো রাখে এবং অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। ইফতারের আগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। এতে শরীর খুব বেশি ক্লান্ত হয় না, আবার ফ্যাট বার্নও হয়।
স্ট্রেচিং বা শরীর প্রসারণমূলক ব্যায়ামও রোজার সময় খুব উপকারী। সকালে সেহরির পর বা বিকেলে হালকা স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে এবং শরীরের শক্তভাব দূর হয়। এতে করে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা কাজ করার ফলে যে ব্যথা হয়, সেটিও কমে যায়।
যোগব্যায়াম রোজার সময়ের জন্য অন্যতম নিরাপদ একটি ব্যায়াম। ধীর গতির শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে করা যোগব্যায়াম শরীর ও মনকে শান্ত রাখে। বিশেষ করে প্রণায়াম বা মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং ক্লান্তি কম অনুভূত হয়। যারা সারাদিন কাজের চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য এটি খুব কার্যকর।
হালকা শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়ামও করা যায়, তবে তা খুব সীমিতভাবে। যেমন বডি ওয়েট এক্সারসাইজ (পুশ-আপ, স্কোয়াট, প্ল্যাঙ্ক ইত্যাদি) ইফতারের ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর করা ভালো। তখন শরীরে শক্তি ফিরে আসে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকিও থাকে না। তবে ভারী ওজন তোলা বা কঠিন জিম ট্রেনিং এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
রোজার সময় সাঁতার বা খেলাধুলা করতে চাইলে সেটি ইফতারের পর করাই ভালো। কারণ এতে শরীর থেকে ঘাম বের হয় এবং পানির ঘাটতি হতে পারে। তাই সন্ধ্যার পর হালকা খেলাধুলা শরীরকে চাঙ্গা রাখে।
ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যেমন অতিরিক্ত গরমে ব্যায়াম না করা, শরীর খুব ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নেওয়া এবং ইফতার ও সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানিশূন্যতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রোজা রেখে ব্যায়াম করা সম্পূর্ণ নিরাপদ, যদি তা পরিকল্পিতভাবে এবং শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী করা হয়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করলে রোজার সময়ও শরীর সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।
-বিথী রানী মণ্ডল










