জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় নির্বিচারে ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে এই বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রামপুরা গণহত্যার ন্যায়বিচারের পথ উন্মোচিত হলো।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালত শুরু হওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার পটভূমি এবং রামপুরায় সংঘটিত নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে ‘ওপেনিং স্টেটমেন্ট’ বা সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়ান শহীদ গঙ্গাচরণ রাজবংশীর ছেলে বিশ্বজিৎ রাজবংশী। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ মামলায় অভিযুক্ত ৪ আসামির মধ্যে ২ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন: ১. লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম (বিজিবি কর্মকর্তা) ২. মেজর মো. রাফাত বিন আলম (বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা)
মামলার বাকি ২ আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন— খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের সময় রামপুরা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় মোট ২৮ জন প্রাণ হারান। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলামকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা গেছে এমন ভিডিও ফুটেজ ও দালিলিক প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছিল। এর আগে বিজিবি কর্মকর্তাদের সেনা হেফাজতে রাখা হয়েছিল এবং গত ২২ অক্টোবর তাদের প্রথমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত দুই আসামির পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন মো. আমির হোসেন। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বজিৎ রাজবংশীর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহত অন্য শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
রামপুরা গণহত্যার এই আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে আজ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
–লামিয়া আক্তার
![Portal_Image_16_1.[7]](https://alokitoshodesh.com/wp-content/uploads/2026/01/Portal_Image_16_1.7-696x365.jpg)









