বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম দায়েরকৃত মামলা এবং রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখারপুল এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার ৮ আসামির মধ্যে ৪ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
বাকি ৪ আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
এই মামলায় জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১১ আগস্ট প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আনাসের বাবার জবানবন্দির মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ২৩ কার্যদিবসে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
যুক্তিতর্ক চলাকালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের মক্কেলদের খালাস প্রার্থনা করেছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মামলাটি লড়ছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক এই রায়ের পুরো কার্যক্রম আজ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর চানখারপুল গণহত্যার এই রায়টি জুলাই-আগস্টের বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।