আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে কারাগারে থাকা অন্যতম আলোচিত আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়া অন্যান্য আসামিদের কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চ্যুয়ালি আদালতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ সময় এজলাসে স্থাপিত এলইডি মনিটর ও অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহত আইনজীবীর বাবা ও মামলার বাদী জামাল উদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেন। তার সাক্ষ্য প্রদানের মধ্য দিয়েই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হয়।

তবে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সারা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে। বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। তবে আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করে বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আদালত চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে খলিফা পট্টি এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নিহত আলিফের বাবা ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন নিহতের ভাই ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেন। এর বাইরে পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়, যার মধ্যে তিনটিতে বাদী হয়েছে পুলিশ।

-এমইউএম