অতিরিক্ত চিনি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

চিনি আমাদের শরীরের জন্য দ্রুত শক্তির উৎস, তবে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সুস্বাদু হলেও, অতিরিক্ত চিনি নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। সরাসরি চিনি ক্যান্সার তৈরি করে না, কিন্তু বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

প্রথমেই বলা যায়, অতিরিক্ত চিনি খেলে ওজন দ্রুত বেড়ে যায়।  ওভারওয়েট হওয়া অনেক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এবং প্যানক্রিয়াস ক্যান্সারের সঙ্গে  ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে। ইনসুলিন হরমোন কোষের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়া চললে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অনেক গবেষণা দেখিয়েছে, চিনি বা শর্করা সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ক্যান্সারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে হজমতন্ত্র ও লিভারের কোষে। এছাড়া, অতিরিক্ত চিনি ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তবে সরাসরি চিনি “ক্যান্সারের কারণ” হিসেবে ধরা হয়নি। মূল ঝুঁকি আসে ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন মাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রদাহের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কমানো উচিত। ফ্রেশ ফল, সবজি এবং পুরো শস্যের মতো স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং অতিরিক্ত চিনি থেকে হওয়া ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

অতিরিক্ত চিনি কেবল ক্যান্সারের ঝুঁকি নয়, এটি ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা এবং অন্যান্য জটিল রোগের কারণও হতে পারে। তাই আমাদের উচিত খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং চিনি ব্যবহারে সচেতন হওয়া। স্বাভাবিকভাবে মিষ্টি খাবার খাওয়ার সময় পরিমিতি রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই নিরাপদ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

বিথী রানী মণ্ডল/