বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হবে কি না, তা জানা যাবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশ দেবেন। গত ৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছে, যার মধ্যে অন্তত ১০০ জনকে হত্যার বিবরণ রয়েছে:
২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ।
২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ।
তৃতীয় অভিযোগ: একই সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে মাসুদসহ আরও ৫০ জনের প্রাণহানির অভিযোগ।
গত ৮ জানুয়ারি শুনানিতে জিয়াউলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার এই অভিযোগগুলোর বিরোধিতা করেন। তারা দাবি করেন, প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আসামির কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রার্থনা জানান।
অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিপক্ষের যুক্তির কড়া জবাব দেন। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন।
গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল। আজকের আদেশের ওপর নির্ভর করছে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে কি না।