রাজধানীতে অবৈধ সিসা বার বন্ধে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা এবং সিসা লাউঞ্জ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সিসা বারের অবৈধ কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিসার আড়ালে ভয়ংকর মাদক ও অনৈতিক কাজ লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ক্যাফে বা লাউঞ্জের আড়ালে রাত গভীর হলে অবৈধ সিসা বারগুলো জমে ওঠে। সেখানে তামাকজাত সিসার সঙ্গে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল এমনকি লিকুইড কোকেনের মতো মরণঘাতী মাদক মেশানো হচ্ছে। উচ্চ শব্দে সংগীত আর অ্যালকোহলের গন্ধে সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক লাউঞ্জে সাউন্ডপ্রুফ গোপন কেবিন তৈরি করে সিসা ও মাদকের পাশাপাশি অসামাজিক ও যৌন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
আইন থাকলেও তদারকির অভাব সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে সিসা বা হুক্কা বারের কোনো বৈধ অনুমতি নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোনো লাইসেন্স দেয় না। আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ তদারকির অভাবে রাজধানীতে বর্তমানে একশর বেশি সিসা বার চালু রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০টি বার তরুণ-তরুণীদের প্রধান আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
বনানীর হত্যাকাণ্ড ও নাম পাল্টে ব্যবসা সম্প্রতি বনানীর ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নামের একটি সিসা বার থেকে বের হয়ে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন রাব্বি (৩১) খুনের ঘটনাটি এই অবৈধ ব্যবসার ভয়াবহ রূপ সামনে এনেছে। তদন্তে জানা গেছে, ওই একই স্থানে এর আগে ‘এরাবিয়ান কজি’ নামে একটি সিসা বার ছিল, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধ হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ কৌশলে নাম পাল্টে আবারও সেখানে সিসা ব্যবসা শুরু করে। অভিযানের পরও বারবার নাম পরিবর্তন করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই নোটিশের মাধ্যমে সরকারকে দ্রুত এসব অবৈধ সিসা লাউঞ্জ শনাক্ত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

 

–লামিয়া আক্তার