ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: দুই অফিসিয়াল পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে চীন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে দুজন অফিসিয়াল পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। সম্প্রতি একটি কূটনৈতিক পত্রের (নোট ভারবাল) মাধ্যমে চীন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, চীনের এই দুই পর্যবেক্ষক নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে এই পর্যবেক্ষকদের মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা করবেন। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, তারা প্রাক-নির্বাচনী প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা পর্যন্ত সকল পর্যায় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
চীনের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সম্প্রতি জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও জনগণের ওপর আস্থাশীল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজস্ব দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে চীনের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ মূলত কৌশলগত। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও চীন তিনজন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল এবং সেই নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠু’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চীন তার কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রদূত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিশ্চিত করতেই চীন আগেভাগেই সক্রিয় হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক বলেন, “চীন এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজের অংশগ্রহণ বাড়াতে চায়। ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রাধান্য থাকলেও চীন এখন সেখানে নিজের উপস্থিতি দৃশ্যমান করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনার পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্ভূত নতুন পরিস্থিতিতে চীন তার বিপুল বিনিয়োগ ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক।
উল্লেখ্য, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অংশীদার। ফলে ত্রয়োদশ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পরবর্তী স্থিতিশীলতা চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চীনের এই অংশগ্রহণকে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।
–লামিয়া আক্তার