ইরানে রক্তপাতের মূল দায়ী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু: লারিজানি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, ‘ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারীর তালিকায় ইতিহাসে প্রথমে ট্রাম্প, দ্বিতীয় স্থানে নেতানিয়াহু থাকবে।’

তিনি অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উসকানিতেই ইরানে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আপনাদের দেশপ্রেমিকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান; হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন, কারণ তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। সহায়তা আসছে।’

লারিজানি এই হস্তক্ষেপকে ‘নির্লজ্জ ও বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, বিদেশি এই হস্তক্ষেপই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করেছেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিক্ষোভ চলাকালীন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানাচ্ছে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর অন্তত ১ হাজার ৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ইরান সরকার দাবি করছে, অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় তারা সক্ষম এবং বিদেশি কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে ট্রাম্পের সমর্থন এবং ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার অভিযোগ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ককে ক্রমশ আরও উত্তেজনাপূর্ণ করছে।

লারিজানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান এই বিক্ষোভকে কেবল অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর।

সূত্র:হিন্দুস্তান টাইম্‌স

-মামুন