জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ: ২৫ শীর্ষ ব্যবসায়ীর বিচার চাইল বৈছাআ

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও অর্থ দিয়ে সহায়তার অভিযোগে দেশের ২৫ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) পক্ষ থেকে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে এই ২৫ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ দাখিল শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ।
অভিযোগে উ ল্লিখিত প্রধান কয়েকজন ব্যবসায়ী হলেন— বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমান, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম, বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, নাসা গ্রুপের তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. হাতেম, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসিম মঞ্জুর, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মো. সানিসহ আরও অনেকে।
রিফাত রশিদ জানান, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই যখন সারাদেশে ইন্টারনেট শাটডাউন চলছিল এবং ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলি চালাচ্ছিল, সেই সংকটময় মুহূর্তে এসব ব্যবসায়ীরা গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা আন্দোলন দমনে সরকারকে নৈতিক ও আর্থিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং যে কোনো মূল্যে সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। বৈছাআর দাবি, এই ব্যবসায়ীরা সরাসরি গণহত্যার উসকানিদাতা এবং অর্থদাতা হিসেবে অপরাধ সংঘটিত করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সংস্থা দ্রুতই এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের পরিবারের ন্যায়বিচারের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
–লামিয়া আক্তার