জুলাই আন্দোলনে ধানমন্ডি এলাকায় ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এজাহারে উল্লিখিত ‘আহত’ ব্যক্তিদের কোনো অস্তিত্ব বা চিকিৎসার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত: গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় সাহেদ আলীসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন দাবি করে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেছিলেন শরীফ নামে এক ব্যক্তি। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদের, হাসান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই’র পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ ভুক্তভোগীদের সন্ধানে বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ) যোগাযোগ করেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজাহারে নাম থাকা সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল কিংবা জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমার মতো কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি বাদী তার তথাকথিত ভাই ‘সাহেদ আলী’কে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে হাজির করতে পারেননি।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য: পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ জানান, “জুলাই আন্দোলনে আহতদের যে সরকারি গেজেট হয়েছে, সেখানে এই মামলায় উল্লিখিত কারো নাম পাওয়া যায়নি। বাদীকে বারবার নোটিশ দিলেও তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র বা আহত ব্যক্তিদের হাজির করতে পারেননি। এমনকি বাদীর দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে জানা গেছে, সেখানে ওই নামে কেউ থাকে না। তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।”
বাদীর পাল্টা দাবি: মামলার বাদী শরীফ অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি তদন্ত সংস্থার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাকে আসামিদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, ওই সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে অনেকেই বিভিন্ন ফার্মেসি বা ঘরোয়াভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন, যার রেকর্ড জোগাড় করা কঠিন।
পরবর্তী পদক্ষেপ: এই মামলায় ইতিপূর্বে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা একে ‘হয়রানিমূলক মামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তথ্যের সত্যতা না মিললে মামলাটি খারিজ হয়ে যেতে পারে।