নতুন শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

ছবি- সংগৃহীত।

মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে এবার নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়—‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’। পাঠ্যবইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা এবং আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগসহ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাসও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে সংযোজিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (ইতিহাস), বাংলা সাহিত্য ও ইংরেজি—এই তিনটি বইয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বয়স ও বোধগম্যতার ভিত্তিতে পরিচ্ছেদগুলোর আকার ভিন্ন।

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে নতুন পরিচ্ছেদ ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’-এ ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠা, ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, ১৯৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শহীদ নূর হোসেন ও আবু সাঈদের ছবি পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাঠে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও জনতার আন্দোলনের কারণে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই ‘সপ্তবর্ণা’তে হাসান রোবায়েতের লেখা কবিতা ‘সিঁথি’ যুক্ত করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও জনতার আত্মত্যাগ, রক্তপাত ও দেশের মুক্তির প্রত্যয়কে তুলে ধরে। অষ্টম শ্রেণির বইতে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ শিরোনামের প্রবন্ধে ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে যথাক্রমে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ এবং ‘Graffiti’ অধ্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনার বিবরণ, শহীদদের ঘটনা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক তথ্য ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা পাঠ্যবইয়ে আন্দোলনের অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানবে এবং স্বৈরশাসন, দমন-পীড়ন ও জনগণের লড়াই সম্পর্কে সচেতন হবে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশের মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর কাছে পাঠ্যবই পৌঁছে যাবে। এখন পর্যন্ত ৮৪.৭৮ শতাংশ বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, এনসিটিবির ওয়েবসাইটে সব স্তরের ৬৪৭টি পাঠ্যবই অনলাইনে উপলব্ধ রয়েছে।

মালিহা