সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘটির মানসিক আঘাত এখনো কাটেনি। উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত প্রাণীটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকার ফলে বাঘটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আপাতত স্যালাইন মেশানো পানি পান করানো হচ্ছে।
এদিকে ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাম পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। ধারালো ও শক্ত ফাঁদের চাপে দীর্ঘ সময় পায়ের নিচের অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে মারাত্মক জখমের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারের পর ক্ষতস্থানে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে বাঘটি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি বিবেচনায় খাঁচাটি ঢেকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রোববার দুপুরে সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারের জন্য পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী বাঘটির ওজন আনুমানিক ১০০ কেজি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাঘটি প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন ধরে ফাঁদে আটকে ছিল। রোববার সন্ধ্যায় তাকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়, যেখানে বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় বাঘটিকে খুলনায় আনা হয়। সন্ধ্যায় তার জ্ঞান ফিরে আসে এবং রাত ১০টার দিকে একবার উঠে বসে। তবে সে কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। আগে থেকেই তাকে স্যালাইন মেশানো পানি দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে সে অল্প পরিমাণ পানি পান করেছে; কিন্তু অন্য কোনো খাবার নেয়নি।
তিনি আরও জানান, শুরুতে বাঘটিকে আস্ত মুরগি দেওয়া হলেও তা খায়নি। পরে মুরগি কেটে ছোট টুকরো করে দেওয়া হয়, সেটিও দুপুর পর্যন্ত স্পর্শ করেনি। পরবর্তী সময়ে গরুর কলিজা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে বাঘটি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং খাবার গ্রহণ না করায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাম পায়ের গভীর ক্ষতও তাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে।
নির্মল কুমার পাল বলেন, কয়েকদিন বন্দি অবস্থায় থাকার ফলে বাঘটি মানসিক ট্রমায় রয়েছে। রোববার রাতে সে খাঁচা থেকে বের হয়নি এবং সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইবার বাইরে এসেছে। মানুষের উপস্থিতিতে যেন আতঙ্ক না বাড়ে, সে জন্য খাঁচার চারপাশ ঢেকে রাখা হয়েছে এবং কেন্দ্রের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নাইমের তত্ত্বাবধানে বাঘটির চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
আফরিনা সুলতানা/










