আসন্ন রমজান মাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও অংশগ্রহণের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। একই সঙ্গে চলতি বছরের ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবার গণনা নিয়ে অসংগতি এবং রমজানে পর্যাপ্ত ছুটি না থাকার অভিযোগ তুলেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
সংগঠনের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির সই করা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দাফতরিকভাবে তালিকাটির সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশিত ছুটির তালিকাটি কার্যকর হলে সেখানে একাধিক অসামঞ্জস্য স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। অতীতের মতো চলতি বছরেও ছুটির তালিকার কয়েকটি ক্রমিকে শুক্র ও শনিবার ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হয়েছে। তবে একই তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির মধ্যে দুইটি শুক্রবার ও দুইটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার যুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ছয় দিন অতিরিক্তভাবে ছুটির হিসেবে ধরা হয়েছে, যা ছুটির হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে দাবি শিক্ষক নেতাদের।
এই অসংগতির কারণে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ছুটির তালিকা অনভিপ্রেত এবং দ্রুত সংশোধন প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রমজান মাসে রোজা রেখে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। পাশাপাশি অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও সিয়াম পালন করে বিদ্যালয়ে আসে, যা কোমলমতি শিশুদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির বিষয়টিও একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।










