প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে জিআরআর মডেল

ছবি- সংগৃহীত।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভর পরীক্ষা থেকে সরে এসে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় সংযোজন করা হচ্ছে আধুনিক জিআরআর (গ্র্যাজুয়াল রিলিজ অব রেসপনসিবিলিটি) মডেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিআরআর একটি শিক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো, যেখানে শিক্ষকের ভূমিকা ধীরে ধীরে সহায়ক পর্যায়ে নেমে আসে এবং শিক্ষার্থীর ওপর শেখার দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলাই এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য।

এই মডেলটি ‘আমি করি, আমরা করি, তুমি একা করো’—(I do, we do, you do) নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। শুরুতে শিক্ষক সরাসরি শেখানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। পরবর্তী ধাপে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যৌথভাবে পাঠ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এরপর শিক্ষার্থীরা জুটি বা সহপাঠীদের সহযোগিতায় অনুশীলন করবে। সর্বশেষ ধাপে শিক্ষার্থী কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই নিজে নিজে শেখার সক্ষমতা অর্জন করবে।

জিআরআর কৌশলটি চারটি ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষক পাঠ মডেলিং করবেন। দ্বিতীয় ধাপে যৌথভাবে পাঠচর্চা হবে। তৃতীয় ধাপে সহপাঠীদের সঙ্গে দলগত বা জুটিভিত্তিক শেখা এবং চতুর্থ ধাপে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে শেখার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের পাঠবোঝা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একই সঙ্গে মুখস্থনির্ভর মূল্যায়নের পরিবর্তে শেখার প্রকৃত অগ্রগতি নিরূপণ করা সহজ হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

মালিহা