শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের আশপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সুপারিশে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।
পরদিন বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ অধ্যাদেশটি জারি করে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকাশ্য স্থানে ধূমপানের জন্য জরিমানা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ বাজারে আসা সব ধরনের নতুন তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, এসব আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) এবং নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের বিকাশমান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’-এর আলাদা সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে সব ধরনের পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া ই-সিগারেটসহ বিকাশমান তামাকপণ্যকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক কোনো উপাদান মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন আইনে তামাকজাত পণ্যের মোড়কের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত মানের প্যাকেজিং ছাড়া এসব পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার হবে এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
আফরিনা সুলতানা/










