তারেক রহমানের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, সম্পদ ও মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর নামে কোনো ঋণ নেই এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য মতে, ৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমানের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণই বেশি, যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের বিবরণ:
নগদ ও ব্যাংক জমা: ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
শেয়ার: ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থায়ী আমানত (এফডিআর): ৯০ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
সঞ্চয়ী ও অন্যান্য আমানত: ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আসবাবপত্র: ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সোনা ও মূল্যবান ধাতু: ২ হাজার ৯৫০ টাকা (অর্জনকালীন মূল্য)।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে তারেক রহমানের দুই একরের কিছু বেশি অকৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২.৯ শতাংশ জমি উপহার হিসেবে পাওয়ায় এর মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের ২০২৫-২৬ করবর্ষে বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং তিনি ৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি। এর মধ্যে ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নগদ ও ব্যাংকে জমা, ৩৫ লাখ টাকা এফডিআর এবং ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ী আমানত রয়েছে। তবে হলফনামা অনুযায়ী তার নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।
মামলা থেকে অব্যাহতি ও খালাস
তারেক রহমানের বর্তমান হলফনামায় কোনো ফৌজদারি মামলার অস্তিত্ব নেই। ২০০৪ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে মোট ৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা বিভিন্ন সময়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি ৪২টি মামলায় খালাস পেয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে। বাকি মামলাগুলো ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে খালাস, প্রত্যাহার বা খারিজের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০০৭ সালের জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার একটি মামলা ২০০৯ সালে খারিজ ও বেকসুর খালাসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
তারেক রহমান তার শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘উচ্চমাধ্যমিক পাস’ উল্লেখ করেছেন এবং পেশা হিসেবে লিখেছেন ‘রাজনীতি’। ঢাকা ও বগুড়া—উভয় আসনেই তিনি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

-এম. এইচ. মামুন