নাচ অনুশীলনে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমবে

নতুন বছরেই শুরুতেই জেনে নিন ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার রোগ কি? আমাদের মস্তিষ্ক আমরা যা ভাবি, অনুভব করি, মনে করি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। ডিমেনশিয়া হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ যা স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া, সময় ও স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি এবং দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও খারাপ হয়।

এমন কিছু রোগ রয়েছে যা একজন ব্যক্তির মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে কাজ করতে বাধা দেয়। যখন একজন ব্যক্তির মধ্যে এই রোগগুলোর একটি থাকে, তখন তার চিন্তাভাবনা করতে, মনে রাখতে এবং কথা বলতে সমস্যা হতে পারে। তারা এমন কিছু বলতে অথবা করতে পারেন যা অন্যদের কাছে অবাক লাগার মতো মনে হতে পারে। যখন এই সমস্যাগুলো দিনে দিনে আরো খারাপ হতে থাকে, তখন ডাক্তাররা এগুলো বর্ণনা করার জন্য ডিমেনশিয়া শব্দটি ব্যবহার করে থাকতে পারেন। ডিমেনশিয়া এমন কিছু নয় যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রত্যেকেরই হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন রোগের কারণে হয়। এই রোগগুলো মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করে, তাই এগুলো বিভিন্ন উপায়ে লোকজনকে প্রভাবিত করে।

আলঝেইমার রোগটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিরা যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে। এই অবস্থার কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্পগুলো অনুসন্ধান করে, আলঝেইমার দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের যত্ন নিতে হবে। ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগটি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়; কিন্তু বিশেষ কয়েকটি রোগ থাকলে এই রোগটি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় যেমন-ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল, বিষণ্ণতা।

এই মুহূর্তে এমন কোনো ওষুধ নেই যা ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগ নিরাময় করতে পারে। একজন ব্যক্তির একবার এই রোগটি হলে, এটি তাদের বাকী জীবনই থেকে যাবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো আরও খারাপ হতে থাকবে। কিছু কিছু ওষুধ আছে যা দৈনন্দিন জীবনকে কিছুটা সহজ করতে সাহায্য করে। তবে এই রোগের জন্য কয়েকটি অনুশীলন করলে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমবে! ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগ মূলত ৬০ বছরের আশপাশে শুরু হয়; কিন্তু আগে থেকেই নির্দিষ্ট অনুশীলনে অভ্যস্ত হওয়া দরকার, যাতে সেই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিসিনের অধ্যাপক তৃষা প্যাসরিচা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানোর একটি উপায় বাতলে দিলেন নেটমাধ্যমে। সুদোকু খেলা, শব্দ নিয়ে খেলা, ধ্যান, ইত্যাদির বাইরে গিয়ে বিশেষ এক পন্থার কথা উল্লেখ করলেন তিনি। আর তা হল, নৃত্য। ১৯৮০ সাল থেকে বেশ কিছু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা সপ্তাহে একেবারেই নাচ করেননি, তাদের তুলনায় যারা এক বারের বেশি নাচ করেছেন, তাদের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৬ শতাংশ কম। নাচের মতো শিল্প এবং অনুশীলন একই সময়ে মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্তরকে সক্রিয় করে তোলে। ছন্দের প্রতি মনোযোগ, নাচের প্রত্যেকটি ভঙ্গি ও মুদ্রা মনে রাখা, নতুন কোনও নাচের ভঙ্গি বানিয়ে নেওয়া, গানটি শোনা, নাচের জায়গাটি সম্পর্কে সতর্ক থাকা, দেহের ভারসাম্য রাখা, এই সমস্ত দিক মাথায় রাখতে হয়। তাতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

নতুন বছরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য হাঁটা এবং নাচকে বেছে নিতে হলে নাচকেই বেছে নিতে বলছেন চিকিৎসক। কেবল তা-ই নয়, নাচ করলে স্ট্রেস হরম‌োন কমে গিয়ে ডোপামাইন, সেরোটোনিন, এন্ডরফিনস এবং অক্সিটোসিনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

সাবিনা নাঈম