
শীত নিবারণের জন্য অনেকে কম্বল দিয়ে মুখ ঘুমাতে পছন্দ করেন এবং ঠাণ্ডা এড়াতে অনেকেই লেপ-কম্বলের ভেতরে নাক-মুখ পুরো ঢেকে ঘুমিয়ে পড়েন। এই স্বস্তিদায়ক অভ্যাসই কি না শরীরের জন্য হয়ে উঠছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
লেপ-কম্বল মাথা পর্যন্ত টেনে দিলে ভেতরে একটি ছোট বন্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। গবেষণা বলছে—এ অবস্থায় ‘রিবারিদিং রেট’ বেড়ে যায়; অর্থাৎ ব্যক্তি নিজের নিঃশ্বাসে বের হওয়া বাতাসই আবার শ্বাস নেন। এতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং অক্সিজেন কমে যায়। ফল—দমবন্ধ ভাব, অস্থির ঘুম, ঘুম ভেঙে যাওয়া ও ক্লান্তি।এতে শ্বাসযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, ঘুমের মান খারাপ হয় এবং সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি, সিওপিডি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক। এ ছাড়া লেপের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা আটকে গিয়ে মাথার আশপাশ গরম হয়ে ওঠে, যা গভীর ও প্রশান্ত ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এতে ঘাম হওয়া, অস্বস্তি বা বারবার জেগে ওঠার প্রবণতাও বাড়ে।
ত্বকের সমস্যাও বাড়তে পারে মুখ ঢেকে ঘুমালে। কম্বলের ভেতরে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে যায়। এতে মুখের ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি, চুলকানি বা র্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হয়। এছাড়া মুখ ঢেকে ঘুমোনোর ফলে অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। কম্বল বা চাদরে ধুলো, জীবাণু ও ছত্রাক লেগে থাকতে পারে। মুখ ঢেকে শ্বাস নেওয়ার সময় সেগুলো সরাসরি নাক ও ফুসফুসে ঢুকে পড়ে। এর ফলে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ হওয়া বা শ্বাসনালীর সংক্রমণ হতে পারে। অনেকের আবার নাক ও মুখ অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাও হয়। কম্বলের ভেতরের গরম বাতাস শুষ্ক হওয়ায় নাকের ভেতর খুসখুস ভাব, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
মুখ না ঢেকে উষ্ণ থাকার উপায় শরীর উষ্ণ রাখতে মুখ ঢাকাই একমাত্র উপায় নয়। শীত নিবারণের জন্য বাড়তি পোশাক পরা,ভারী লেপের বদলে মাঝারি লেপ ব্যবহার করা এবং কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে রাখা। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা যাতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা থাকলে হিউমিডিফায়ার বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা। ঘর গরম রাখা তবে অতিরিক্ত নয়। একটু সচেতন হলেই শীতে সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক ঘুম উপভোগ করা সম্ভব।
সানা









