মাটির কাপে চা খাওয়ার অভ্যাস এখন আবার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। শুধু ঐতিহ্যের টানেই নয়, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশবান্ধব কারণ। মাটির কাপ মূলত প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি, তাই এতে কোনো কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর পদার্থ থাকে না। প্লাস্টিক বা কাগজের কাপে গরম চা ঢাললে যেসব ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, মাটির কাপে সে ঝুঁকি নেই।
মাটির কাপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ছিদ্রযুক্ত গঠন। এই ছিদ্রের কারণে চায়ের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষিত হয় এবং চায়ের স্বাদ আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও খাঁটি লাগে। অনেকেই বলেন, মাটির কাপে চা খেলে চায়ের সুগন্ধ ও আসল ফ্লেভার বেশি ভালোভাবে অনুভূত হয়। বিশেষ করে দুধ চা বা লাল চায়ের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটা স্পষ্ট।
স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও মাটির কাপে চা খাওয়া উপকারী। মাটিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান যেমন ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সামান্য পরিমাণে চায়ের সঙ্গে মিশতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং এটি হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। অনেকের মতে, মাটির কাপে চা খেলে গ্যাস্ট্রিক বা অম্বলের সমস্যা তুলনামূলক কম হয়, যদিও এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
পরিবেশের দিক থেকেও মাটির কাপ একটি ভালো বিকল্প। এটি সম্পূর্ণভাবে বায়োডিগ্রেডেবল, অর্থাৎ ব্যবহারের পর পরিবেশে মিশে গিয়ে কোনো দূষণ তৈরি করে না। একবার ব্যবহার করে ফেলে দিলেও প্লাস্টিকের মতো শত শত বছর ধরে পরিবেশ নষ্ট করে না। এতে কুমোরদের জীবিকাও টিকে থাকে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
সব মিলিয়ে, মাটির কাপে চা খাওয়া মানে শুধু চা পান করা নয়, বরং স্বাস্থ্য, স্বাদ, ঐতিহ্য ও পরিবেশ—সবকিছুর প্রতিই একটু বেশি যত্ন নেওয়া।
-বিথী রানী মণ্ডল










