সামনেই বড়দিন শুরু হয়ে গিয়েছে যিশুর জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি। এখন থেকেই কেকের দোকানগুলিতে সাজসাজ রব উঠে গিয়েছ, সেই সঙ্গে বড় বড় রেস্তোরাগুলোই সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। বাইরে না হোক, বাড়িকেই সাজিয়ে তুলতে হবে আর ঘরোয়া ভাবে, কাছের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে নিয়ম মেনেই মেতে উঠতে হবে বড়দিনের আনন্দে। এমন ভাবে ঘর সাজাতে হবে যাতে করে একটা পজিটিভ ভাইব ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ভালবাসা, আশা, আর ক্রিয়েটিভিটির মেলবন্ধন ঘটুক আপনার বাড়ির অন্দরে! লিভিং রুম থেকে বারান্দা পযর্ন্ত কেমন করে সাজাবেন নিজের বাড়িটি?
ক্রিসমাসের সঙ্গে লাল রঙের খুব ভালো একটা সংমিশ্রণ রয়েছে। যদিও আরও অনেক রঙ রয়েছে যেগুলো উৎসবের আমেজকে আরও বেশি করে জমিয়ে তোলে। যেমন কালো, ব্রাউন, সবুজ, নীল যে কোনও একটা উজ্জ্বল রঙ দিয়ে সাজিয়ে ফেলতে পারেন নিজের ঘরকে, যেটা আপনার নিজেরও পছন্দের হবে। যে কোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আলো। সব অন্ধকারকে দূর করতে আলো দিয়ে ঘর সাজাতে চান সকলেই। বিভিন্ন রঙের, স্টাইলের লণ্ঠন এক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করতে পারেন নিজের ঘরকে সাজানোর জন্য।
ক্রিসমাস কর্ণার গুলোকে ছোট ছোট টবে বা কাচের পাত্রে বিভিন্ন ধরণের গাছ দিয়ে নতুন ভাবে সাজিয়ে ফেলুন ঘরকে, আর চমকে দিন ক্রিসমাস পার্টিতে আপনার বাড়িতে আসা অতিথিদের এছাড়া বাড়ির একটা নির্দিষ্ট জায়গাকে বানিয়ে ফেলুন ক্রিসমাস কর্ণার। মাটির পুতুল, ক্রিসমাস ট্রি, তুলো দিয়ে বানিয়ে ফেলুন বরফ! মেরি মায়ের কোলে ছোট যিশুর মূর্তি- বেথেলহেমের আস্তাবলের চিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নিজের বাড়ির একটা কর্ণারে। বড়দিন মানেই ক্যান্ডেল, টুনি বাল্ব, ক্রিসমাস, মোমবাতি ছাড়া ক্রিসমাসের ডেকোরেশন সম্পূর্ণই হয় না! ফেয়ারি লাইটের গুরুত্ব তাই সবথেকে বেশি। এটা ঘরকে যেমন আলোকিত করে তেমন দেখতেও সুন্দর লাগে।
এছাড়াও আরও অনেককিছু দিয়ে সাজাতে পারেন ঘরকে। যেমন একটা টেবিলে অতিথিদের জন্য উপহার সাজিয়ে রাখতে পারেন। প্লাস্টিকের দিকে না গিয়ে, পাটের তৈরি জিনিস দিয়ে দেওয়াল সাজাতে পারেন আবার বিভিন্ন রঙিন বল, ঘণ্টা দিয়ে সাজিয়ে রাখতে পারেন ক্রিসমাস ট্রি। এছাড়াও খাবারদাবার, মিষ্টি, ড্রাইফ্রুটসের জন্যও আলাদা করে সাজাতে পারেন একটা টেবিল! কাঠের টেবিল হলে সাদা রঙের রানার ম্যাট রাখতে পারেন। টেবিলের পাশের দেওয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে রানার কিনতে পারেন। রানারের উপর চামচ হোল্ডার, টিস্যু হোল্ডার, লবণদানি রেখে দিন। সুন্দর ফুলদানিতে ফুল সাজিয়ে রাখুন। টেবিলকে আরও সুদৃশ্য করতে হলে ক্যান্ডেল-স্ট্যান্ডও রাখা যেতে পারে। যদি ঝোল জাতীয় খাবার থাকে, তা হলে গাঢ় রঙের লিনেন টেবিল ক্লথ বেছে নিতে পারেন। বাসনপত্রের জন্য চিনা মাটির, কাচের ক্রকারি সেট বেছে নিতে পারেন। সঙ্গে রাখুন রুপোলি চামচ-কাঁটা। তাতেই টেবিলের ভোল বদলে যাবে।মজার কথা হল, আপনার এই নতুন স্টাইলে ঘর গোছানো দেখে বেশ তাক লেগে যাবে অতিথিদের, সে কথা কিন্তু জোর দিয়েই বলা যায়।
বেশি বেশি খুশি নিয়ে আনন্দ আর উল্লাসে কাটুক এবারের বড়দিন! আপনাদের জীবনে বয়ে আসুক আনন্দ, ভালোবাসা আর অফুরন্ত খুশি। প্রতিটি মুহূর্ত ভরে উঠুক হাসিতে ও উল্লাসে, আর যিশুর আশীর্বাদ থাকুক আপনাদের সাথে সারা বছর ধরে।
সানা










