ইলিয়াস আলীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে: তাজুল ইসলাম

১৩ বছর আগে গুম হওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা এম ইলিয়াস আলীকে পরবর্তী সময়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বুধবার মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিলের পর তিনি এ কথা জানান।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একশর বেশি মানুষকে গুম করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে ইলিয়াস আলীকে বনানী এলাকা থেকে তুলে নেওয়া, গুম করা এবং পরবর্তীতে হত্যা করার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং সিলেট-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১২ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হন এবং এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

প্রধান প্রসিকিউটর আরও জানান, ২০১৫ সালে বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে ভারতে পাচারের ঘটনাতেও জিয়াউল আহসানের ভূমিকা ছিল। একইভাবে ২০১৩ সালে তেজগাঁও থানার বিএনপি নেতা সাজিদুল ইসলাম সুমনসহ আটজনকে তুলে নেওয়ার ঘটনাও তাঁর নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে সংঘটিত হয়।

এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা গোলাম কিবরিয়া মিহিন, হাফেজ জাকির এবং চৌধুরী আলমসহ একাধিক গুমের ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবেও জিয়াউল আহসানের নাম উঠে এসেছে। গুম সংক্রান্ত তদন্তে প্রায় ৫০০ মানুষ হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব গুমের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও সে সময় সরকার তা অস্বীকার করে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে এসব ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে র‍্যাব, এনএসআই ও এনটিএমসি-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়।