রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমান: ভোট বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি বিশেষ মহল আসন্ন নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোট বানচালের যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে।”
দীর্ঘ ২২ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তারেক রহমানের উপস্থিতি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং খালেদা জিয়ার সেচ প্রকল্পগুলো এই অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করেছিল। কিন্তু গত ১৬ বছরে ১০০০ কোটি টাকার ‘পদ্মা সেচ প্রকল্প’ পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, “ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে এই থমকে যাওয়া প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এর সুফল রাজশাহী থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
 তারেক রহমান তার বক্তব্যে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি দেন: যাতায়াত ও অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পদ্মা নদীর ওপর একটি নতুন ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ বা গুদাম তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন, যার মাধ্যমে নারীরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “ষড়যন্ত্রকারীরা চায় না জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই তারা নানাভাবে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।” তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন উন্নয়নের এই বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।”
রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকে আসা লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল ছাড়িয়ে পুরো রাজশাহী মহানগরী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে সশরীরে সামনে পেয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান।
লামিয়া আক্তার