রংপুর, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস): চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। তবে রায় কার্যকর হওয়ার বিষয়ে তাদের গভীর শঙ্কা রয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। আজ তার ফাঁসির রায় হয়েছে—এটি আমাকে খুশি করেছে। তবে বাংলার মাটিতে ফাঁসি কার্যকর দেখেই আমি মরতে চাই। আল্লাহ যেন সেই দিন দেখার তৌফিক দেন।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ক্ষেত্রে যেন রায় কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দেরি না হয়।” পরিবারের পক্ষ থেকে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “শুধু প্রধানমন্ত্রীর বিচার যথেষ্ট নয়—যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছে, যারা গুলি করেছে, সবার ফাঁসি চাই। আমি একজন মা, আজ বুঝতে পারছি সন্তান হারানোর কষ্ট।”
বড়ভাই আবু হোসেন বলেন, “রায় ঘোষণা করলেই হবে না, কার্যকর করতে হবে। দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে গুম-খুনের রাজনীতি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় যে গণহত্যা হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে শুধুই বিচার কার্যকর হলে।”
হত্যা মামলার বাদী ও সাঈদের আরেক বড় ভাই রমজান আলী বলেন, “এ দেশে অনেক রায় কার্যকর হয় না। আমরা চাই না এই মামলায়ও এমনটি ঘটুক। শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্যের বিচার বাংলার মাটিতেই দেখতে চাই।”
পরিবারের অভিযোগ, আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে সাঈদকে হত্যা করেছিল।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সংলগ্ন পার্ক মোড়ে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষের সময় আবু সাঈদ শহীদ হন। পরদিন ১৭ জুলাই তাকে পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। সাঈদের হত্যার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অবি/










