হঠাৎ করেই গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে দিয়েছে সরকার। ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে তার স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পোশাক ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্তৃক মব সৃষ্টির অভিযোগও উঠেছে। একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান করা ও মব সৃষ্টির ঘটনায় হতবাক হয়েছেন অনেকে। সামাজিকমাধ্যমে চলছে সমালোচনাও। এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।
তার ভাষ্য, কোন অবস্থাতেই এইরকম অসম্মানজনক বিদায় তিনি ডিজার্ভ করেন না। এইরকম একটা সংকটকালে নজিরবিহীনভাবে কেন আমরা একদম দলীয় ব্যসায়ীকে গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হলো? ঠিক যখন দরকার ছিল আরও অধিকতর যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া তখন দেওয়া হলো এমন একজনকে যিনি ঋণ খেলাফী ছিলেন। এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো যার দায়িত্ব ঋণ খেলাফীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যারা উনার স্বগোত্রীয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে কামরুল হাসান মামুন বলেন, একটা গণঅভ্যূত্যানের পর সব কিছু যখন লন্ডভন্ড তখন ড. ইউনূসের ইন্টেরিম সরকার দেশের দায়িত্বভার নেন। সেই সময় রিজার্ভ কত ছিল মনে আছে? আওয়ামীলীগের শেষ সময়ে ডলারের ক্রাইসিসের কথা মনে আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ডলার বাঁচানোর জন্য শিক্ষকদের দেশের বাহিরে নিজ খরচেও যেতে নিষেধ ছিল। ডলারের ক্রাইসিসের কারণে আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছিল না। ছেলেমেয়েরা যারা বিদেশে পুরো অথবা আংশিক নিজ খরচে পড়তে যাচ্ছিল তারাও ডলার পাঠাতে পারছিল না। এর মধ্যে ২৪ এর গণঅভ্যুথ্যানের পর পর আওয়ামীপন্থী অনেক মিল মালিক, বড় বড় ব্যবসায়ী বিপুল পরিমান টাকাসহ বিদেশে চলে যায়। তাদের ব্যবসা ও কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। দেশের অনেক মানুষ চাকুরী হারায়। সেই সময় আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হন।
ঢাবির এই অধ্যাপক আরও বলেন, তারপর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন থেকে ৩০ বিলিয়নের বেশি হয়। ইনফ্লেশন বা মুদ্রাস্ফীতি কমে। ধীরে ধীরে অর্থনীতি একটু স্বস্তির বাতাস আসে। হ্যা অনেক সমস্যাও নিশ্চই আছে। সবকিছুতে যে উনি সফল হয়েছেন এমনও না। অনেক rhetoric বা অতি কথনও ছিল। এতদসত্বেও কোন অবস্থাতেই এইরকম অসম্মানজনক বিদায় তিনি ডিজার্ভ করেন না। এইভাবে তাকে বিদায় করে এই সরকারের কি লাভ হলো? আর এইরকম একটা সংকট কালে নজিরবিহীনভাবে কেন আমরা একদম দলীয় ব্যাসায়ীকে গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হলো?
সবশেষে অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ঠিক যখন দরকার ছিল আরও অধিকতর যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া তখন দেওয়া হলো এমন একজনকে যিনি ঋণ খেলাফী ছিলেন। এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো যার দায়িত্ব ঋণ খেলাফীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যারা উনার স্বগোত্রীয়। কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্টের কি হবে? এই অর্থমন্ত্রী এইরকম একজনকে গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দিয়ে ভালো করেননি। গভর্নর পদটিকেও দলীয়করণ করতে হলো? আপনাদের উদ্দেশ্য কি? এই নিয়োগের কারণে যেই ক্ষতি হবে তার কনসিকুয়েন্স সইতে পারবেনতো? দিন কিন্তু আগের মত নাই?
-বেলাল










