মধুর ক্যান্টিন থেকে ভাড়া পায় না ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে অতোপ্রতো ভাবে জড়িত মধুর ক্যান্টিন ৷ প্রতিদিন ক্যান্টিনে ভীড় জমায় রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও দল। চলে নানান আড্ডা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থাপনার মত কোনো ভাড়া পরিশোধ করে না মধুর ক্যান্টিন। উপরন্তু অভিযোগ আছে বাজে খাবার পরিবেশন উচ্চদাম ও গ্রাহকদের সাথে বাজে ব্যবহারের। কোন রকম ভাড়া না পাওয়ায় এই জায়গা থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷
এ বিষয়ে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসে নেয়া হয় খোঁজ। জানা যায় কোনোরকম ভাড়া পরিশোধ করে না মধুর ক্যান্টিনের বর্তমান মালিক অরুন কুমার দে। ১৯৭১ সালে তার পিতা ও ক্যান্টিনের প্রতিষ্ঠাতা মধুসূদন দে’র (মধুদা) শহীদ হওয়ার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে এর দায়িত্ব নেন৷
ঢাকার শাহবাগের মত ব্যাস্ত এলাকায় এরকম বানিজ্যিক একটি স্পেসের জন্য কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার টাকা ভাড়া প্রদান করতে হয়। এ হিসাবে প্রতিবছর ঢাবির ক্ষতির পরিমান ৩ লক্ষ্য থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার অবধি। যদিও একাধিক সূত্র বলছে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বিনা ভাড়ায় চলছে মধুর ক্যান্টিন, এ বিষয়ে ঢাবি প্রশাসনেরও রয়েছে উদাসীনতা৷
এ সবের পরও খাবারের মান নিয়ে রয়েছে চরম অসন্তোষ। নিন্মমানের খাবার ও অতিউচ্চ দামের অভিযোগ সব-সময়ের ৷ প্রক্টর অফিস একাধিকবার দাম নির্দিষ্ট করে দিলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি ক্যান্টিন মালিক। এছাড়াও নানা সময়ে দেখা গেছে খাবারের মান ও ক্যান্টিনের স্টাফদের বাজে ব্যবহারের অভিযোগ ।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার মিসেস ফাতেমা বিনতে মুস্তাফা বলেন, ‘তারা আমাদেরকে কোনো ভাড়া দিচ্ছে না। শুরু থেকেই এমন কিছু ছিল কিনা সে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এরকমই’। কেন ভাড়া আদায় করা হয় না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো মধুদার স্মৃতির কথা বিবেচনা করে ভাড়ার বিষয়টি এতদিন এমন ছিল। তবে আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কমনরুম ও ক্যাফেটরিয়া বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমা বলেন, তাদেরকে একাধিকবার এ বিষয়ে বলা হলেও তারা এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনকে জানানো হলে তারাও কোন ব্যাবস্থা নেয়নি । তাদের খাবারে কোন হাইজিন মানা হয় না । তারা যেখান থেকে খাবার আনে তাও খুব নিন্ম মানের । এদিকে তারা ভাড়াও পরিশোধ করে না । তাদের এক কথা ‘আমরা অনেক বছর ধরে খাবার খাওয়াই আমাদের খাবারের মান খারাপ হতে পারে না’। তারা আমদের কথায় কোন ভ্রুক্ষেপ করে না। এছাড়াও এমনও অভিযোগ আছে যে তারা যে বাসায় থাকে সেটা শিক্ষকদের বাসা সেখানেও কোন ভাড়া তারা পরিশোধ করেননা বলেই জানি ।

 

-বেলাল