উদ্বোধনের ৬ মাস পরও অকেজো জাবি গ্রন্থাগারের অটোমেশন টুলস

আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে চালু করা হয়েছিল একাধিক অটোমেশন টুলস। কিন্তু চালুর ছয় মাস পরও এসব প্রযুক্তির বেশিরভাগই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের সোমবার (৪ আগস্ট) জাবি গ্রন্থাগারের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একাধিক যুগোপযোগী অটোমেশন টুলস সংযোজন করা হয়। এ সময় গ্রন্থাগারে প্রবেশের জন্য আরএফআইডি ও ইউএইচএফ সিকিউরিটি গেট, সহজে বই খুঁজে পেতে ও ইস্যু করতে বুক সার্চিং ও ইস্যু কিয়স্ক এবং সহজে ইস্যুকৃত বই জমা দেওয়ার জন্য ড্রপবক্স সংযোজন করা হয়। ড্রপবক্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেই তাদের ইস্যুকৃত বই অনুষদ বা আবাসিক হল থেকে গ্রন্থাগারে জমা দিতে পারবে বলে জানানো হয়। এছাড়া শিক্ষকদের টেক্সট কারেকশনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গ্রন্থাগারে গ্রামারলির সাবস্ক্রিপশন নেওয়া হয়েছিল।

তবে  দেখা যায়, গ্রন্থাগারে প্রবেশের জন্য স্থাপন করা আরএফআইডি ও ইউএইচএফ সিকিউরিটি গেট সচল থাকলেও বন্ধ রাখা হয়। শিক্ষার্থীসহ সবাই সিকিউরিটি গেটের পাশের ম্যানুয়াল গেট দিয়ে চলাচল করে। সহজে বই খুঁজে পেতে বুক সার্চিং চালু থাকলেও এতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। বুক সার্চিংয়ের পর কাগজে লিখে রিসেপশনে দিয়ে বই খুঁজে নিতে হয়, যা আবারও সবাইকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিরিয়ে নেয়। একইভাবে ইস্যুকৃত বই অনুষদ বা আবাসিক হল থেকে গ্রন্থাগারে জমা দেওয়ার জন্য ড্রপবক্স চালুর কথা থাকলেও ছয় মাস পরেও তা কার্যকর করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী গ্রন্থাগারের অটোমেশন টুলস নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বলে গ্রন্থাগারে লোক দেখানো কিছু অটোমেশন টুলস সংযোজন করা হয়েছে। কোনোটিই শিক্ষার্থীদের তেমন কাজে আসে না। প্রবেশপথে লাগানো সিকিউরিটি গেট বন্ধই থাকে। সবাই পাশের গেট দিয়ে যাতায়াত করে। সার্চিং বুকে এখনো সব বই এন্ট্রি করা হয়নি। আর ড্রপবক্সের কথা বলা হলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।”

এ বিষয়ে জাকসুর তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বলেন, “বুক সার্চিং মেশিনে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বই এন্ট্রি করা হয়েছে। সব বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির বই এন্ট্রির কাজ চলছে। দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি; তারা অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশাবাদী। আর ড্রপবক্সের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্যারকে জানিয়ে আসছি। তিনি জানিয়েছেন, বুক সার্চিং মেশিনের কাজ শেষ হলে এটি চালু করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের প্রোগ্রামার আব্দুর রহমান বলেন, “গ্রন্থাগারে স্থাপিত অটোমেশন টুলসের কাজ চলমান রয়েছে। বুক সার্চিং মেশিনে বেশিরভাগ বই এন্ট্রির কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজও অতি দ্রুত শেষ হবে। কিছু জটিলতার কারণে এখনো ড্রপবক্স সুবিধা চালু করা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করতে ড্রপবক্সসহ আরও কিছু অটোমেশন টুলস সংযোজনের কাজ চলছে। আর নিরাপত্তার জন্য গেটে স্থাপন করা আরএফআইডি ও ইউএইচএফ চালু রয়েছে; কিন্তু আইডি কার্ড-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীরা তা ব্যবহার করছে না।”

এ বিষয়ে গ্রন্থাগারের ডেপুটি ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সকল বইসহ বিভাগীয় গ্রন্থাগারগুলোর সকল বই আরএফএইডি করার কাজ চলছে। সকল বই আরএফএইডির অন্তর্ভুক্ত হলে তবে বুক সার্চিং মেশিনে সকল বই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি তখন ড্রপবক্সের মাধ্যমে বই দেওয়া নেওয়াও সম্ভব হবে। সম্পূর্ণ গ্রন্থাগার অটোমেশন করার কাজ চলমান রয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের যাওয়ার আগে সম্পূর্ণ গ্রন্থাগার অটোমেশনের আওতাধীন হবে।”

-বেলাল