ভাসমান বেদে পল্লির রোজার দিনযাপন

জীবন সংগ্রামে প্রতিদিন লড়াই করা ভাসমান বেদে পল্লির মানুষগুলোর কাছে রমজান মানেই শুধু ধর্মীয় অনুভূতি নয়, বরং নতুন এক পরীক্ষা। দিনের পর দিন কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা এখন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আর এই কষ্ট সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় ইফতারের সময়।

এসব বেদে পরিবার প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান; কিন্তু কাজ না থাকলে হাতে আসে না কোনো টাকা। ফলে ইফতারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করাও হয়ে ওঠে কঠিন।

বেশিরভাগ দিনই তাদের ইফতার সীমাবদ্ধ থাকে সামান্য মুড়ি, গুড়, আর এক গ্লাস পানি বা পাতলা শরবতে। কোনো দিন যদি একটু ভালো আয় হয়, তাহলে যোগ হয় বুট, ছোলা বা আলুর ভাজি। শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়ে অনেক সময় বড়রা নিজেদের অংশটুকু ছেড়ে দেন। অনেক পরিবার আবার একসঙ্গে মিলে যা আছে তা ভাগাভাগি করে খেয়ে রোজা ভাঙেন।

টানা বৃষ্টি আর অস্থায়ী ঘরবাড়ির দুরবস্থার কারণে রান্নার সুযোগও অনেক সময় থাকে না। ভিজে যাওয়া জ্বালানি, ভাঙা চুলা সব মিলিয়ে এক বেলার ইফতার জোগাড় করাও যেন যুদ্ধের মতো হয়ে দাঁড়ায়।

তবুও এই কষ্টের মাঝেও তাদের চোখে থাকে বিশ্বাস আর ধৈর্য। ভাসমান এই বেদে পল্লির ইফতার তাই শুধু খাবার নয় এটি একসঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই, ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানবিকতা আর কঠিন বাস্তবতার এক করুণ চিত্র।

-বিথী রানী মণ্ডল