সন্দ্বীপে আবারও আস্থার প্রতীক মোস্তফা কামাল পাশা

চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আবারও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা। দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এতে উনার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন ও জামায়াত জোটের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদারও বিপুল ভোটে হেরে ধরাশায়ী হয়েছেন মোস্তফা কামাল পাশার কাছে। বলাবাহুল্য যে, জামায়াতের প্রার্থী জনাব আলাউদ্দিন সিকদার শুধু সন্দ্বীপ উপজেলা জামায়াতের নেতা নন বরং তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির ও একজন প্রভাবশালী নেতা।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যখনই এ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনি প্রতিবারই এ আসনটি দলকে বিজয় হিসেবে উপহার দিয়েছেন। এমনকি সেনা শাসনের পরও ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিন আমলে যখন নির্বাচন হয়েছিল ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও সারাদেশে যে ৩০টি সিট বিএনপি পেয়েছিল তার মধ্যে সন্দ্বীপ ছিল একটি। তখনো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার কাছে ভোটযুদ্ধে ধরাশায়ী হয়েছিলেন ।

চারবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও আগের তিনবারের সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা,এবং এলাকাভিত্তিক শক্ত অবস্থানের কারণেই সন্দ্বীপে তাঁর জনপ্রিয়তা স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সন্দ্বীপজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে শুকরিয়া-দোয়া-মোনাজাত ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন, উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে, দলীয় হাইকমান্ড যদি সরকার গঠন করে, তাহলে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন এই প্রবীণ সংসদ সদস্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের কাঠামোতে তাঁর অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন দলীয় নেতারা। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টানা চারবারের বিজয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সন্দ্বীপে দলীয় ভিত্তির শক্ত অবস্থানেরও প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হয় এবং সন্দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

আবু সাঈদ খান, সন্দ্বীপ