সাড়ে তিন দশকে বগুড়ায় জামায়াতের ভোট দ্বিগুণ

বগুড়ায় ৭টি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে গড়ে ভোট পেয়েছিলেন ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করায় দুটি নির্বাচনে দলটির ভোটের হার নির্ধারণ করা যায়নি। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জেলার সাতটি আসনে ভোট পেয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সে হিসাবে প্রায় সাড়ে তিন দশকে দলটির ভোট এখানে বেড়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। সে হিসাবে এই সময়ে বগুড়ায় জামায়াতে ইসলামীর ভোট দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে ১৯৯১ সালে ভোট পড়েছিল ৬২ দশমিক ১ শতাংশ হারে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৫ ভোট। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহাবুদ্দিন পেয়েছিলেন ২১ হাজার ৫২১ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

১৯৯৬ সালে এই আসনে ভোট পড়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৪টি। যা মোট ভোটের ৭২ দশমিক ০ শতাংশ। এর মধ্যে জামায়াতের শাহাবুদ্দিন ৮ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ হাজার ৭ ভোট পান। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৪টি। যা মোট ভোটের ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জামায়াতের শাহাবুদ্দিন পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট। শতকরা হার ২৪ দশমিক ১।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান ৩৩ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৩৪ শতাংশ। সেবার ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৯ হাজার, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ১২২টি, যা মোট ভোটের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান সেবার পান ২৪ হাজার ৫৯৩ ভোট, শতকরা হিসাবে যা ১৭ দশমিক ১। ২০২৬ সালে একই প্রার্থী প্রদত্ত ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩ ভোটের মধ্যে ৯৩ হাজার ৪৪৮ ভোট পেয়েছেন। শতাংশের হিসাবে যা ৩৭ দশমিক ২৫।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে ১৯৯১ সালে জামায়াতের মোফাজ্জল হক পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ৫৬৩ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের শতকরা ২৫ দশমিক ২ ভাগ। ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬৮ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে তিনি পান ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৫টি। যা মোট ভোটের ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে প্রদত্ত ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৬টি। যা মোট ভোটের ৭২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে জামায়াতের নুর মোহাম্মদ পান ১ লাখ ১১ হাজার ২৬টি ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ৪৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ১৯৯১ সালে জামায়াতের আবদুর রহমান ফকির পেয়েছিলেন ৩৪ হাজার ৩৭২ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের শতকরা ২৮ ভাগ। ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে দলটির প্রার্থী নাজির আহম্মেদ ৩২ হাজার ৬২৫ ভোট পান। যা প্রদত্ত ভোটের ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ১৯৯১ সালে মোট ভোট পড়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬১ ভোট। যা মোট ভোটের ৬২ শতাংশ। জামায়াতের শহীদুর রহমান সেবার পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ৩৮৬ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে দলটির প্রার্থী মঞ্জুরুল হক সরকার পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৫৪২ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের দবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ৩৫ শতাংশ।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ১৯৯১ সালে ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩২টি। যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪৮ হাজার ৮৬ ভোট পান জামায়াতের গোলাম রব্বানী। যা প্রদত্ত ভোটের ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে একই প্রার্থী পান ৪৬ হাজার ৯১৭ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ২০ দশমিক ২ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ১৯৯১ সালে ভোট পড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ ভোট। যা মোট ভোটের ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জামায়াতের জামাত আলী প্রামাণিক পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৪৪০ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে দলটির প্রার্থী ফজলে রাব্বী পান ১৫ হাজার ৬৭৮ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৪টি, যা মোট ভোটারের ৭২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে জামায়াতের গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। সে হিসাবে প্রদত্ত ভোটের ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ পেয়েছেন তিনি।

-সাইমুন