১. শোনা বিষয় যাচাইবিহীন প্রচার না করা : মানুষের মধ্যে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা আছে যে অন্যের কাছে থেকে শোনা বিষয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করা। অথচ এটি মিথ্যাবাদী হওয়ার অন্যতম কারণ। কেননা মানুষের কাছ থেকে শোনা কথা সত্য নাও হতে পারে।
তাই মিথ্যা থেকে বাঁচতে হলে শোনা কথা যাচাই না করে প্রচার করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শুনে (যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯২)
২. মন্দ ধারণা না করা : কোনো বিষয়ে সঠিক কিছু না জেনে শুধু ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে কথা ও কাজের কারণে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। ফলে অনেক পরিবার ও সংসারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
তাই মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা বেশি ধারণা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
৩. মিথ্যাবাদীকে নেতা হিসেবে গ্রহণ না করা : মিথ্যাবাদীকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করলে তার প্রভাব অনুসারীদের ওপর পড়বে। ফলে অনুসারীরাও মিথ্যায় অভ্যস্ত হবে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তুমি মিথ্যাবাদীদের অনুসরণ কোরো না।’ (সুরা : কালাম, আয়াত : ৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা মোনাফিককে নেতা হিসেবে গ্রহণ ে কোরো না। কেননা মুনাফিক যদি নেতা হয়, তাহলে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৭৭)
৪. ওয়াদা পালন করা ও আমানত রক্ষা করা : ওয়াদা রক্ষা করা ও আমানত পূর্ণ করা মিথ্যা থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম। এর দ্বারা মানুষ ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে বাঁচতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ওয়াদা পূর্ণ করো। কেননা ওয়াদা সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে। (বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৪)
৫. শিশুকে ধোঁকা না দেওয়া : পিতা-মাতা বা অন্য কেউ শিশুদের সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো কিছু দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবশ্যই তাকে তা দিতে হবে। অন্যথা সে মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার বাচ্চাকে বলল, এসো, নাও। অতঃপর তাকে তা দিল না, তবে সে মিথ্যুক হবে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৯৮৩৫)
৬. বেশি ওয়াদা করা থেকে বিরত থাকা : ওয়াদা পালন না করা মোনাফিকের আলামত। তাই অধিক পরিমাণে ওয়াদা করার অভ্যাস পরিহার করা উচিত। তাহলে মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে। ‘আল-আদাবুশ শারঈয়্যাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘যে মিথ্যাকে ভয় করে সে ওয়াদা কম করে। দুটি কাজ মিথ্যা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। অধিক পরিমাণে ওয়াদা করা ও বেশি বেশি ওজর পেশ করা।’ (আল-আদাবুশ শারঈয়্যাহ, ১/৬৯)
৭. ঠাট্টা ও কৌতুক বর্জন করা : ইসলামী শরিয়তে নির্দোষ কৌতুক নিষিদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্য কথা ও বাস্তব বিষয় নিয়ে কৌতুক ও রসিকতা করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৬১২৯)
কিন্তু মিথ্যা, ঘৃণ্য বা তিরস্কারমূলক ঠাট্টা ও কৌতুক হারাম। অনেকে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা হাস্যকর কথা বলে থাকে। মিথ্যা থেকে দূরে থাকতে ওগুলো সর্বোতভাবে বর্জন করা আবশ্যক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সেই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস নিশ্চিত যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে। তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৫)
৮. স্বল্পভাষী হওয়া : মিথ্যা থেকে বাঁচার অন্যতম পথ হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কথা ত্যাগ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, অন্যথা চুপ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)










