একজন শিল্পীর মেরুদণ্ড থাকা জরুরি : সিফাত বন্যা

সিফাত বন্যা অভিনেত্রী, আবৃত্তি প্রশিক্ষক, মডেল, নেপথ্য কণ্ঠ শিল্পী। ছোট ও বড় পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে নির্মাতাদের আস্থাপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে উঠছেন। তিনি নিয়মিত মঞ্চে উপস্থাপনাও করেন। বহুমাত্রিক গুণী এই অভিনেত্রী আলোকিত স্বদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে?
বিভিন্ন সেক্টরেই কাজ করছি। শুধু অভিনয় নয়। গত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস এবং চ্যানেল এসের জন্মদিন উপলক্ষে সঞ্চালনা ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি টিভিসিতে ভয়েস দিলাম। এনটিভির জন্য একক নাটক ‘চাপ নিবেন না, হয়ে যাবে’। ‘ঊমির স্কুল’ নামে ধারাবাহিকে কাজ করেছি ওটিটির জন্য। নির্বাচনের পরে আবার ফ্যাস্টিভ্যালের জন্য একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করব। আর ঈদের জন্য কাজ তো থাকবেই।

স্বপ্নজয়ী নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, এটি সম্পর্কে জানতে চাই?
স্বপ্নজয়ী মূলত তরুণ নির্মাতাদের তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আমি এখানে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। সমুদ্রপাড়ের জীবনের টানাপোড়েন, বাল্য বিয়ে সবকিছু মিলিয়ে এই সিনেমা তৈরি হয়েছে।

নাটকের সংখ্যা বা ভিউ কোনটা গুরুত্বপূর্ণ?
নাটকে সংখ্যা বা ভিউ কোনটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরিত্র অনুযায়ী কাজ করতে পছন্দ করি। গল্পে আমার চরিত্রটি কতটা সময় পদার্য় উপস্থিতি সেটা নিশ্চিত হয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। আবর অনেক সময় এই বিষয়টা না ভেবেও কাজ করতে হয়। পরিস্থিতির জন্য।

অভিনয় এবং রাজনীতি এ দুটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
অভিনয় হচ্ছে শিল্পকর্ম। একজন শিল্পী অভিনয় করেন, গান বা আবৃত্তি করেন। রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আমি মনে করি শিল্পীদের রাজনীতি করা উচিত নয়। তবে শিল্পীকে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে। কারণ রাজনীতি সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্পী যখন নির্দিষ্ট দলের হয়ে যায় তখন তার মেরুদণ্ড থাকে না। একজন শিল্পীর মেরুদণ্ড থাকা জরুরি। কারণ তিনি সবার থেকে আলাদা।

অভিনয়ে আসার গল্প শুনতে চাই?
অভিনয়ে আসব এ ধরনের কোন চিন্তা কখনো করিনি। থিয়েটারে ভর্ভি হলাম। দীর্ঘ কয়েক বছরেও চিন্তা করিনি অভিনয় করবো পেশাদারিত্ব নিয়ে। করোনার আগে মনে হলো, আর তো কিছু করছিনা, তাহলে এদিকেই মন দিই। কাজ শুরু করলাম আর করোনাও শুরু হলো। পৃথিবী স্বাভাবিক হবার পর থেকে আবার কাজ করছি।

আপনি সিনেমাতেও কাজ করেছেন, কাজগুলো সম্পর্কে কিছু বলুন?
বড় পর্দায়ও কাজ করা হয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মা, মাস্তুল, একজন মহান পিতা ইত্যাদি সিনেমায় কাজ করেছি। সবগুলো সিনেমাতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ হয়েছে।

বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে দেখা গেছে আপনাকে?
হ্যাঁ, বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছি। বেঙ্গল মিট, গ্রামীণ ফোন, ক্রাউন সিমেন্ট, বিকাশ, ৩৩৩, ভিগো রাইচ কুকার ইত্যাদি।

আবৃত্তি শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত আছেন এ সম্পর্কে জানতে চাই?
আবৃত্তি তো ছোট থেকেই করা হয়। হাইস্কুলে থাকতেও করেছি। তারপর গাজীপুর এসে থিয়েটারে ভর্তি হওয়ার পরে আবৃত্তিতেও মনোযোগী হই। আমার দলের নাম নাট্যভূমি। নাট্যভূমি থেকেই আমরা দলীয় আবৃত্তি নির্মাণ করতাম।

এই শিল্পমাধ্যমে অনেক সীমাবদ্ধতা। এটি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না আপনার?
আবৃত্তি শিল্প নিয়ে আসলে রাষ্ট্র কখনো বড় ভূমিকা রাখে না। জাতীয় পদকগুলোতেও আবৃত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজে আলাদা করে কোনো শিক্ষকও নেই। বা এ-সংক্রান্ত কোনো ধরনের কোনো পাঠচক্রও নেই। সার্বিকভাবেই আবৃত্তি সব শিল্পের থেকে পিছিয়ে আছে। আবৃত্তি নিয়ে আমি একটি পরিকল্পনা করেছি। এখন বলতে চাই না। শুরু করতে পারলে তখন অবশ্যই বলব।

টিভি এবং থিয়েটার এই দুমাধ্যমে চ্যালেঞ্জের জায়গা কোথায়?
টিভি এবং থিয়েটার দুটি দুই রকম। দুই জায়গায়ই চ্যালেঞ্জিং। থিয়েটারে চরিত্রকে নিজের করে তোলা যায়। মনে হয় এই চরিত্রটাই আমি। কারণ একটি চরিত্রের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা থাকে। ক্যামেরার সামনে সেই সময় পাওয়া যায় না। থিয়েটারেই বেশি আনন্দ পাই কাজ করে।

মাহমুদ সালেহীন খান