ঢাকাই সিনেমার নায়িকা ইয়ামিন হক ববি। সর্বশেষ গত বছর তাকে প্রেক্ষাগৃহে দেখা গিয়েছিল। মুক্তি পেয়েছিল তার অভিনীত ‘ময়ূরাক্ষী’ নামে একটি সিনেমা। রশিদ পলাশ পরিচালিত এ সিনেমাটি যদিও ব্যবসায়িকভাবে ততটা সুবিধা করতে পারেনি; তবে থেমে নেই ববি। নতুন একাধিক সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত তিনি। তার হাতে রয়েছে ‘বউ’, ‘তছনছ’, ‘দিওয়ানা’, ‘শিরোনাম’, ‘বেঈমান’সহ আরও কয়েকটি সিনেমা। এগুলোর দৃশ্যের শুটিং প্রায় গত বছরই শেষ। অন্যান্য কাজ শেষ করে নির্মাতারা এ বছর মুক্তির পরিকল্পনা করছেন।
ববি জানান, চলতি বছর একাধিক সিনেমা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন তিনি। এগুলোর মধ্যে প্রস্তুতিতে এগিয়ে রয়েছে মিনহাজ কিবরিয়া পরিচালিত ‘ বেঈমান’, কে এ নিলয়ের ‘বউ’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘তছনছ’ ও অনিক বিশ্বাসের ‘শিরোনাম’।
ববি বলেন, ‘চারটি সিনেমার গল্পই ভিন্ন। চরিত্রেও পার্থক্য রয়েছে। দর্শকরা আমাকে যেভাবে চান, সেভাবে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, সিনেমাগুলো দর্শকের মন ভরাবে।’ তিনি আরও জানান, ‘চলতি মাসেই লন্ডনে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা ‘বেঈমান’। এরপর ইউরোপ-আমেরিকার অন্যান্য দেশে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। চলতি বছর বাংলাদেশেও এটি মুক্তি পাবে। বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “করোনাকালের পর থেকে অভিনয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়েছি। অচিরেই ‘বউ’ সিনেমার বাকি গানের শুটিং করব। অন্যদিকে ‘তছনছ’ সিনেমার ৮০ ভাগ শুটিং শেষ। এটি রোমান্টিক অ্যাকশন। শিগ্গির বাকি কাজ শেষ হবে। প্রযোজক-পরিচালকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া আরও দু-একটি নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে কথা চলছে। চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।’ অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ‘তছনছ’ সিনেমায় তাকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে। একটি সহজ-সরল তরুণীর, অন্যটি প্রতিবাদী। ক্যারিয়ারে প্রথমবার দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছেন, এ নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ববি।
এদিকে ‘ময়ুরাক্ষি’ সিনেমা মুক্তির পর প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেছে প্রেক্ষাগৃহে ববির দেখা মেলেনি। তবে এ সময়টা বসে ছিলেন না অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এই সময় বসে থাকিনি, কাজ করেছি। আসলে কাজের প্রস্তাব আসে অনেক, কিন্তু সব কাজে নিজেকে জড়ানো যায় না। দর্শকের বিশ্বাস ও ভালোবাসা ধরে রাখতে বেছে বেছে কাজ করি। একজন সিনেমার নায়ক-নায়িকার জন্য বছরে দুই থেকে তিনটি কাজই যথেষ্ট। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পারফেক্ট কিছু করতে গেলে এমন হওয়া উচিত। এতে নিজের স্বকীয়তা বজায় থাকে, আত্মতৃপ্তি অনুভূত হয়। অন্য দেশে শিল্পীরা খুব কম কাজ করেন। কিন্তু আমাদের দেশে যদি কোনো অভিনেতার সিনেমা মুক্তি না পায়, মনে করা হয় তার চাহিদা কমে গেছে।’ দর্শকদের পাশাপাশি ববি নিজেও অপেক্ষা করছেন প্রেক্ষাগৃহে ফেরার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পর শিল্পীরা মুক্তির জন্যই মূলত অপেক্ষায় থাকেন। একটি কাজ মুক্তি পাবে, এটি শিল্পীর জন্য অবশ্যই আনন্দের। দর্শকদের দেখানোর জন্যই তো সিনেমা করা। আমিও সেই অপেক্ষায় আছি। আমার অভিনীত সিনেমার গল্পগুলো বেশ চমৎকার। চরিত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য। দর্শকরা আসলে যেরকম দেখতে চান, মুক্তিপ্রতিক্ষিত সিনেমায় আমাকে সেভাবেই দেখতে পাবেন। আমার বিশ্বাস মুক্তি পেলে দর্শকদের ভালো লাগবে।’
উল্লেখ্য, ‘খোঁজ : দ্য সার্চ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে ববির। এরপর একাধিক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে খুব একটা আলো ছড়াতে পারছেন না অভিনেত্রী। সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ময়ূরাক্ষী’ নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল এ অভিনেত্রীকে। তারও আগে ‘পাপ’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায় ববির। সৈকত নাসির পরিচালিত এ সিনেমাটিও সুবিধা করতে পারেনি। বলা যায়, ববি অভিনীত পরপর একাধিক সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে দমে যাননি। বরং নতুন উদ্যমে কাজে ফিরেছেন এ অভিনেত্রী। গত বছর থেকেই ফের কাজে ব্যস্ত হয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন। কাজের সঙ্গে বাড়িয়েছেন সখ্য। অভিনয়ের বাইরে এ মুহূর্তে কিছু ভাবতে চাইছেন না। দেড় দশকের ক্যারিয়ারে ববি উপহার দিয়েছেন, ‘দেহরক্ষী’, ‘রাজত্ব’, ‘বিজলী’, ‘অ্যাকশন জেসমিন’, ‘বেপরোয়া’, ‘নোলক’র মতো সিনেমা।
মাহমুদ সালেহীন খান










