যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের ৪০% চিপ উৎপাদন স্থানান্তর অসম্ভব: তাইপেই

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের মোট সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশ স্থানান্তর করা “অসম্ভব” এমন মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ শুল্ক আলোচক চেং লি-চুন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

তাইওয়ানের টেলিভিশন চ্যানেল সিটিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চেং বলেন, কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তিনি জানান, এই বিষয়টি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন।

চেং বলেন, “আমাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মূল ভিত্তি তাইওয়ানেই থাকবে। দেশের ভেতরে উৎপাদন সক্ষমতা ভবিষ্যতেও বাড়তেই থাকবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উপস্থিতি বাড়াতে আগ্রহী।

তার ভাষায়, “আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ এই শর্তেই হবে যে আমরা তাইওয়ানে শক্তভাবে শিকড় গেড়ে থাকব এবং দেশেই বিনিয়োগ বাড়াব।”

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন আনা জরুরি। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চিপ উৎপাদনে ৪০ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব অর্জন করা। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তাইওয়ান তার চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে না আনে, তবে শুল্ক ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

গত মাসে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যার আওতায় তাইওয়ানের রপ্তানিতে শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয় এবং তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে সম্মত হয়।

চেং আরও বলেন, তাইওয়ানের বিজ্ঞান পার্কগুলো স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তাইওয়ান প্রস্তুত।

বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ প্রস্তুতকারক টিএসএমসি (TSMC) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে কারখানা নির্মাণ করছে। তবুও তাইওয়ান সরকারের দাবি, দেশটির মোট সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সক্ষমতা চলমান, নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত প্রকল্প মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য যেকোনো দেশের বিনিয়োগের তুলনায় অনেক বেশি থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স

সাবরিনা রিমি/