২০২৫ সালে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা শীর্ষে

ছবি: ডিসমিসল্যাব

২০২৫ সালে অনলাইনে ছড়ানো ভুল তথ্যের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশই রাজনৈতিক বিষয়ক ছিল। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর মোট চার হাজারের বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে দুই হাজার ৩৯১টি রাজনৈতিক। আইনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় বিষয়ক অপতথ্য এরপরের অবস্থানে রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে ভিডিওর মাধ্যমে, যার অনেকগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি। দেশজুড়ে কাজ করা নয়টি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডিসমিসল্যাব ২০২৫ সালকে “ভুল তথ্যের বছর” হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ছড়ানো মিথ্যা তথ্য ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বছরের শেষ দিকে দেখা গেছে, গণমাধ্যমের ফটো কার্ড নকল করে নেতা-কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে ভুয়া উদ্ধৃতি ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণার পর মাত্র এক মাসে অন্তত ৫৫টি নির্বাচন সংক্রান্ত অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট বা ভুয়া জরিপের ফলাফল নিয়ে ছড়ানো হয়েছে।

ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণে প্রকাশিত শীর্ষ অপতথ্য ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ২৭৪টি ফ্যাক্টচেক শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত। এরপর আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি ১৫০টি শিরোনামে উপস্থিত। এছাড়া শহীদ শরিফ ওসমান হাদি, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামও অপতথ্য ছড়ানোর শীর্ষে রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে, যা সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক অপতথ্য দ্রুত ছড়ানোর প্রবণতা তুলে ধরে।

সাবরিনা রিমি/