মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিচার শুরু

রয়টার্স: শিশু ও কিশোরদের আসক্ত করার উদ্দেশ্যে মেটা প্ল্যাটফর্মস ও ইউটিউব জেনে বুঝে তাদের অ্যাপ ডিজাইন করেছে এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ঐতিহাসিক বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলাটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাপ নকশাজনিত ক্ষতির দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

২০ বছর বয়সী এক নারী, আদালতে যিনি ‘কেলি জি.এম.’ নামে পরিচিত, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবং ইউটিউবের মালিক গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তিকর নকশার কারণে অল্প বয়সেই তিনি এসব প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়েন, যা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার জুরিদের বলেন, কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ নথি প্রমাণ করে শিশুদের মস্তিষ্ককে আসক্ত করার জন্যই এসব অ্যাপ পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এগুলো শিশুদের আসক্ত করার যন্ত্র, এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবেই বানানো হয়েছে।”

তবে মেটার পক্ষে আইনজীবী পল শ্মিট অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেলির ব্যক্তিগত জীবনে পারিবারিক সহিংসতা ও জটিল সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইনস্টাগ্রাম না থাকলেও কি কেলির জীবন ভিন্ন হতো?

ইউটিউবের আইনজীবী মঙ্গলবার আদালতে প্রাথমিক বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। মেটা ও গুগল উভয় প্রতিষ্ঠানই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই মামলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রায় গেলে ক্যালিফোর্নিয়ার অঙ্গরাজ্য আদালতগুলোতে চলমান হাজারো অনুরূপ মামলার পথ সুগম হতে পারে। বর্তমানে মেটা, গুগল, টিকটক ও স্ন্যাপের বিরুদ্ধে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকে এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে। বিচারপ্রক্রিয়া মার্চ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেলি নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, এসব অ্যাপ তাঁর হতাশা ও আত্মহত্যাপ্রবণ চিন্তাকে আরও তীব্র করেছে।

আদালতের বিচারক জুরিদের নির্দেশ দিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা যাবে না; তবে অ্যাপের নকশা ও পরিচালনার জন্য দায় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপীও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যান্য দেশেও অনুরূপ পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।

সাবরিনা রিমি/