তথ্য অধিকার আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রহসন বলে মন্তব্য করেছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
মঙ্গলবার সংগঠনের আহ্বায়ক শাহীন আনামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফোরামের ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের অর্থে পরিচালিত তথ্য কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা নিন্দনীয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এটিও একটি উদাহরণ।
কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি করে সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা।
তথ্য অধিকার ফোরামের বিবৃতির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করির কো-অর্ডিনেটর খুশী কবির, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন প্রমুখ।
এর আগে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গত সোমবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, এই অধ্যাদেশ তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধ্যাদেশ জারি করেন।
সংশোধিত অধ্যাদেশে তথ্যের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত স্মারক, মানচিত্র, চুক্তি, অডিও-ভিডিও, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত উপাদানও তথ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, দাপ্তরিক ‘নোটশিট’ বা নোটশিটের প্রতিলিপি তথ্যের আওতাভুক্ত হবে না।
-সাইমুন










