১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশ। ইউরোপের একাধিক দেশ যখন শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন তিনি এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিয়মিত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাবিশ বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, “আমি এর পক্ষে, কারণ যেসব বিশেষজ্ঞকে আমি চিনি তারা বলছেন এটি শিশুদের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। আমাদের অবশ্যই আমাদের শিশুদের সুরক্ষা দিতে হবে।” তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি।
এর পরদিন সরকারের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী কারেল হাভলিচেক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন প্রাইমা নিউজকে বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত হলে চলতি বছরই এ বিষয়ে আইন প্রস্তাব সংসদে তোলা হতে পারে।
ইউরোপজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে কঠোর মনোভাব বাড়ছে। স্পেন ও গ্রিস গত সপ্তাহে কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছে। ব্রিটেনও অস্ট্রেলিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে, আর ফ্রান্স ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ঘোষিত উদ্যোগের সমালোচনা করেন এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মালিক ইলন মাস্ক।
বিশ্বজুড়ে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন সময় তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










