আজ প্রোপোজ ডে-লুকানো ভালোবাসা প্রকাশের বিশেষ দিন

বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘প্রোপোজ ডে’ হিসেবে। এই দিনটি ভালোবাসা লুকিয়ে না রেখে খোলাখুলিভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার এক বিশেষ উপলক্ষ। যারা তাদের সম্পর্ককে নতুন পরিচয় দিতে চান, কিংবা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে প্রেমের রূপ দিতে চান—তাদের কাছে প্রোপোজ ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোপোজ ডে-এর ইতিহাস সরাসরি যুক্ত ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহের সঙ্গে, যা প্রেম ও রোমান্স উদযাপনের প্রতীক। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে ইউরোপ ও আমেরিকায় পুরুষরা আনুষ্ঠানিকভাবে আংটি দিয়ে তাদের প্রিয়জনকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে হাঁটু গেড়ে বসে প্রস্তাব দেওয়ার যে রীতি, তা সেই সময় থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্বাস করা হয়, বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোপোজ ডেও আলাদা গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

সময় বদলালেও ভালোবাসা প্রকাশের আবেগ একই রয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু বিয়ের প্রস্তাব নয়, প্রেমের সূচনা বা সম্পর্ককে নতুনভাবে উদযাপন করাও প্রোপোজ ডে-এর মূল উদ্দেশ্য। সারা বিশ্বের মতো ভারতেও গত কয়েক দশকে এই দিনটির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে কাউকে ভালোবাসেন কিন্তু মনের কথা বলতে সাহস পাননি, তাদের জন্য প্রোপোজ ডে এক আদর্শ সুযোগ। আবার যারা ইতিমধ্যেই সম্পর্কে রয়েছেন, তারাও এই দিনে নতুন করে ভালোবাসা প্রকাশ করে সঙ্গীকে বিশেষ অনুভব করাতে পারেন। একটি ছোট্ট প্রস্তাব অনেক সময় সম্পর্ককে আরও গভীর ও মজবুত করে তোলে।

দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাইলে সৃজনশীলতার ছোঁয়া যোগ করা যেতে পারে। প্রিয়জনের জন্য একটি ছোট সারপ্রাইজ পরিকল্পনা, সুন্দর কোনও জায়গায় সময় কাটানো, আংটি বা উপহার দিয়ে প্রস্তাব দেওয়া, কিংবা একটি হাতে লেখা প্রেমপত্র—সবই হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশের দারুণ উপায়।

সব মিলিয়ে, প্রোপোজ ডে ভালোবাসা ও রোমান্স উদযাপনের দিন। এতদিন যাকে বলা হয়নি, আজ তার কাছে মনের কথা খুলে বলার সেরা সময়। আর যারা আগেই বলেছেন, তারাও আজ আবার একবার ভালোবাসার কথা বলে দিন—কারণ ভালোবাসা যত বলা যায়, ততই তা সুন্দর হয়ে ওঠে।

-বিথী রানী মণ্ডল