কুমড়ার বীজের উপকারিতা

কুমড়া আমাদের দেশের একটি পরিচিত ও পুষ্টিকর সবজি। তবে অনেকেই কুমড়ার বীজ ফেলে দেন, অথচ এই ছোট্ট বীজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ। কুমড়ার বীজে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে কুমড়ার বীজ খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়।

কুমড়ার বীজ হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌পিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কুমড়ার বীজ খেলে সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য কুমড়ার বীজ বিশেষ উপকারী। এতে থাকা জিঙ্ক ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রোস্টেট গ্রন্থির সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কুমড়ার বীজ প্রোস্টেটের সমস্যায় উপকার দিতে পারে।

ঘুমের মান উন্নত করতে কুমড়ার বীজ সহায়ক হতে পারে। এতে ট্রিপটোফ্যান নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। ফলে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।

হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য এটি ভালো। কুমড়ার বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস হাড় মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি উপকারী খাদ্য হতে পারে।

এছাড়া কুমড়ার বীজ ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। যারা স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করেন, তারা স্ন্যাকস হিসেবে অল্প পরিমাণ কুমড়ার বীজ খেতে পারেন।

ত্বকের জন্যও কুমড়ার বীজ উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষতি রোধ করে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চুলের বৃদ্ধিতেও জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে মনে রাখতে হবে, কুমড়ার বীজ ক্যালোরি সমৃদ্ধ। তাই দিনে এক মুঠো বা প্রায় ২০–৩০ গ্রাম পরিমাণ যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে বা পেটের সমস্যা হতে পারে।

কুমড়ার বীজ একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী পুষ্টিকর খাদ্য। সঠিক পরিমাণে নিয়মিত খেলে এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ঘুম, হাড় ও ত্বকের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারে। তাই কুমড়ার বীজ আর ফেলে না দিয়ে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

-বিথী রানী মণ্ডল